বিশ্বকাপ শেষ হলেই ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় আসে নতুন মোড়! ইতিহাসও বলে, বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স অনেক সময়ই এই পুরস্কারের ভাগ্য নির্ধারণ করে। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের পর চিত্রটা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা। স্পেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে নেই কোনো একক দাবিদার! বরং ক্লাব ও জাতীয় দলের পারফরম্যান্স মিলিয়ে একাধিক তারকা সমানতালে লড়াইয়ে রয়েছেন।
এই প্রেক্ষাপটে স্পোর্টস স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ডিএজেডএন প্রকাশ করেছে ব্যালন ডি’অরের সম্ভাব্য শীর্ষ পাঁচের র্যাঙ্কিং। সেখানে সবার ওপরে জায়গা পেয়েছেন ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও পুরো মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৭০ গোল করে অসাধারণ ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে তোলার পাশাপাশি বায়ার্নের হয়ে বুন্দেসলিগা শিরোপাও জিতেছেন। যদিও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে হার এবং বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থানেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে, তবুও মৌসুমজুড়ে তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সই তাকে সবার আগে রেখেছে।
দ্বিতীয় স্থানে আছেন স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামাল। চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপে খেলতে নেমেও দলের অন্যতম ভরসা ছিলেন তিনি। এর আগে বার্সেলোনাকে লা লিগা শিরোপা জেতাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তবে বিশ্বকাপে ক্লাবের মতো বিস্ফোরক পারফরম্যান্স দেখাতে না পারায় শীর্ষস্থান হাতছাড়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন আরেক স্প্যানিয়ার্ড রদ্রি। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে তুলনামূলক নির্লিপ্ত মৌসুম কাটালেও বিশ্বকাপে স্পেনের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা ছিলেন তিনি। দলকে শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি টুর্নামেন্টসেরা ফুটবলারের ‘গোল্ডেন বল’ জিতে নিজের ব্যালন ডি’অর সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছেন।
চতুর্থ স্থানে আছেন কিলিয়ান এমবাপে। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও দখল করেছেন তিনি। তবে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে বড় কোনো শিরোপা জিততে না পারা এবং ফ্রান্সের সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নেওয়া তার সম্ভাবনাকে কিছুটা পিছিয়ে দিয়েছে।
শীর্ষ পাঁচের শেষ নামটি লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলতে আট গোল ও চার অ্যাসিস্টে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। তবে শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার পাশাপাশি ফাইনালে প্রত্যাশিত প্রভাব রাখতে না পারা এবং ইউরোপের বাইরে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলার বিষয়টিও তার ব্যালন ডি’অর সম্ভাবনায় প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে রেকর্ড নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের পথ এবার আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় কঠিন বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপের পর ব্যালন ডি’অরের হিসাব-নিকাশে এবার ক্লাব ও জাতীয় দলের সাফল্যের ভারসাম্যই সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তাই শেষ পর্যন্ত ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার কার হাতে উঠবে, তা নিয়ে উত্তেজনা এখন আকাশ ছোঁয়া!
এসএন/পিডিকে