ব্যাটিং-বোলিংয়ে স্বপ্নের মতো দিন বাংলাদেশের

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বপ্নের মতো একটি দিন বললে বোধহয় কোনো ভুল হবে না। সফরকারীদের বিপক্ষে যেভাবে বাংলাদেশ খেলল এতে অনেক বিষেশণ দিয়েই বিশেষায়িত করা যায় টাইগারদের। অন্তত প্রথম দিনের খেলা নিয়ে। বোলিংয়ে অবিশ্বাস্য সাফল্য এনে দিলেন হাসান মাহমুদ, ইবাদত হোসেনরা। টাইগার পেসারদের আগুনে পোড়া অস্ট্রেলিয়া বোলিংয়েও বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি। তানজিদ হাসান তামিম, মুমিনুল হকরা চেনা ছন্দেই পার করে দিয়েছে দিন।

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ডারউইনে প্রধম দিন শেষে ১ উইকেট হারিয়ে ৯৬ রান করেছে বাংলাদেশ। ৬৭ বলে ৩২ রানে অপরাজিত আছেন ওপেনার তানজীদ হাসান তামিম। তার সঙ্গী তিনে নানা মুমিনুল হক। তিনি অপরাজিত আছেন ৪৯ বলে ৩৫ রানে। বাংলাদেশ এখন পিছিয়ে আছে ১০২। এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয়েছিল ১৯৮ রানে।

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিলেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম আর তানজিদ হাসান তামিম। ভালো নতুন বলে অনেকটা সময় কাটিয়ে থিতু হয়েও কিছুটা হতাশ করে ফেরেন সাদমান। ৩০ বলে ২০ রান করে মিচেল স্টার্কের বলে নাথান লায়নকে ক্যাচ দেন তিনি।

সেই ধাক্কা অবশ্য বড় হতে দেননি তামিম আর তিন নম্বরে নামা অভিজ্ঞ মুমিনুল হক। দ্বিতীয় উইকেটে জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের রীতিমতো শাসন করেছেন এই দুজন। অর্ধশত রানের জুটি গড়ে নির্বিঘ্নে পার করে দিয়েছেন প্রথম দিনের বাকি সময়। ৯৬ বলে ৬০ রানে অপরাজিত তাদের জুটি।

এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটাও মন্দ হয়নি। বিনা উইকেটে ৪৫ রান তুলে ফেলে স্বাগতিকদের দুই ওপেনার ট্রাভিস হেড আর জ্যাক ওয়েদারাল্ড। এরপর ঘুরে দাঁড়িয়ে স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ে ধস নামায় বাংলাদেশ। নিয়মিত বিরতিতে তুলে নেয় উইকেট।

ইনিংসের ১২তম ওভারে ওয়েদারাল্ডকে ফিরিয়ে অসিদের ওপেনিং জুটি ভাঙেন হাসান মাহমুদ। উইকেটের পেছনে লিটন দাসকে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৭ বলে ২৩ রান। এরপর বেশি সময় উইকেটে টিকতে দেননি আরেক ওপেনার হেডকেও। নিজের পরের ওভারে এসে উঁড়িয়ে দেন হেডের স্ট্যাম্প। ৩৯ বলে ২২ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

হাসানের সঙ্গে যোগ দেন ইবাদত হোসেনও। ১৯তম ওভারে উইকেটে থিতু হওয়ার চেষ্টা থাকা নতুন ব্যাটার মার্নাস লাবুশেনকে ফেরান তিনি। নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ২০ বলে ১ রান করেন লাবুশেন। মধ্যাহ্ন বিরতির আগে বাংলাদেশকে আরেকটি সাফল্য এনে দেন তাসকিন আহমেদ। উইকেটে এসে কিছুটা ওয়ানডে মেজাজে শুরু করেছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। তবে লম্বা হয়নি সেই ইনিংস, থেমেছে ১৩ বলে ১৩ রানেই।

বিরতি থেকে ফিরে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেন স্টিভেন স্মিথ আর অ্যালেক্স ক্যারি। পঞ্চম উইকেট জুটিতে অর্ধশত রান তুলে ফেলেন তারা। ক্যারিকে ফিরিয়ে ভয়ঙ্কর হওয়ার আগেই সেই জুটি ভাঙেন ইবাদত। ৪৩ বল খেলে ১৯ রান বোল্ড হয়ে যান ক্যারি।

পরের ১৭ ওভারের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার বাকি ৫ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। ক্যারি ফেরার পর উইকেটে এসে কিছুটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন বেউ ওয়েবস্টার। তার সেই আক্রমণ প্রতিহত করেন তাসকিন আহমেদ। ৩৯তম ওভারে ওয়েবস্টার (১০ বলে ১২) ফেরেন বোল্ড হয়ে।

এরপর বড় দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নামেন চোট কাটিয়ে দীর্ঘদিন পরে টেস্ট দলে ফেরা প্যাট কামিন্স। কিন্তু স্টিভেন স্মিথকে বেশি সময় সঙ্গ দিতে পারেননি তিনি। ১৯ বলে ৯ রান করে হাসান মাহমুদের বলে ফিরেছেন উইকেটের পেছনে লিটন দাসকে ক্যাচ দিয়ে।

বাকিদের আসা-যাওয়ার মিছিলে একপ্রান্ত আগলে রেখে অভিজ্ঞতার পরিচয় দিচ্ছিলেন স্মিথ। ব্যাটিং ব্যর্থতায় পড়া স্বাগতিকদের টেনে তোলার দায়িত্বটা নিয়েছিলেন নিজের কাধে। ইনিংসে একমাত্র ব্যাটার হিসেবে হাফসেঞ্চুরির দেখাও পেয়েছিলেন স্মিথ, ছুটছিলেন সেঞ্চুরির পথে। তবে সেই আশা পূরণ হতে দেননি হাসান। ৫১তম ওভারে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান স্মিথকে। ফেরার আগে ১০৯ বলে ৭১ রান করেন তিনি।

স্মিথকে ফিরিয়েই ইতিহাস গড়েন হাসান। প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তুলে নেন ফাইফার। নিজের পরের ওভারে এসেই অস্ট্রেলিয়ার কফিনে শেষ পেরেক ঢুকে দেন হাসান। লায়নকে (১৩ বলে ৭) ফিরিয়ে গুটিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়াকে। ১৭ ওভার বল কের ৫৬ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করেন তিনি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিন শেষে)

অস্ট্রেলিয়া (প্রথম ইনিংস) : ৫৩ ওভারে ১৯৮/১০ (হেড ২২, ওয়েদেরল্ড ২৩, লাবুশেন ১, স্মিথ ৭১, গ্রিন ১৩, কেয়ারি ১৯, ওয়েবস্টার ১২, কামিন্স ৯, স্টার্ক ১, লায়ন ৭, হেইজেলউড ৪*; তাসকিন ১৬-২-৫৫-২, হাসান মাহমুদ ১৭-৩-৫৫-৬, ইবাদত ১১-২-৩৯-২, মিরাজ ৪-০-১২-০, তাইজুল ৫-০-২৪-০)

বাংলাদেশ (প্রথম ইনিংস) : ২৪ ওভারে ৯৬/১ (সাদমান ২০, তামিম ৩২*, মুমিনুল ৩৫*; স্টার্ক ৭-১-২৮-১, হ্যাজলউড ৭-২-১৯-০, গ্রিন ৩-১-১২-০, কামিন্স ৪-০-১৪-০, লায়ন ৩-০-১৬-০) 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *