বিশ্বকাপে ইবোলার আতঙ্ক, নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ চলছে জমজমাটভাবে। লাখো দর্শকের এই মহাযজ্ঞের মাঝে স্বাভাবিকভাবেই সামনে এসেছে সংক্রামক রোগের শঙ্কাও।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলায় আক্রান্ত কোনো ভ্রমণকারী যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর ঝুঁকি খুবই কম হলেও সেটি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগেভাগেই সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থা।

২০১৪ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সময় লাইবেরিয়ার নাগরিক থমাস এরিক ডানকানকে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসের একটি হাসপাতালে ভর্তি না করার ঘটনা বড় শিক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। পরে তার শরীরে ইবোলা শনাক্ত হয় এবং দুই নার্সও সংক্রমিত হন, যদিও তারা সুস্থ হয়ে ওঠেন।

ওই ঘটনার পর ২০১৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ২৬ কোটি ডলার ব্যয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং ১৩টি বিশেষায়িত ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্র গড়ে তোলে।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি), প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বিশ্বকাপে ইবোলার ঝুঁকি কম। তবে কঙ্গোতে চলমান প্রাদুর্ভাবে ৬৭৫ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত এবং ১৩৫ জনের বেশি মারা যাওয়ায় পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে। 
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলা বাতাসে ছড়ায় না। এটি আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরলের সরাসরি সংস্পর্শে এলে সংক্রমিত হয়।

বিশ্বকাপকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সংক্রামক রোগ মোকাবিলার মহড়া, চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ, বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

যদিও সিডিসিতে জনবল কমে যাওয়াকে কিছু বিশেষজ্ঞ উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখছেন। তবু তাদের মতে, ইবোলা বা অন্য কোনো সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রস্তুত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *