বিশ্বকাপের বাকি ১৫ দিন

মেসি-ম্যারাডোনাদের ওপরে নাইজেরিয়ার ওকোচা

গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা উঠতে বাকি আর মাত্র ১৫ দিন। ফুটবল মাঠের সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যগুলোর একটি হলো প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে বল পায়ে ড্রিবলিং করে এগিয়ে যাওয়া। আর বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি সফল ড্রিবলিং করার এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড নিজের করে রেখেছেন নাইজেরিয়ার কিংবদন্তি ফুটবলার জে-জে ওকোচা। ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে এক ম্যাচে ১৫টি সফল ড্রিবলিং করে এই কীর্তি গড়েন তিনি।

১৯৯৪ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল নাইজেরিয়া ও ইতালি। সেই ম্যাচে ইতালির রক্ষণভাগে ছিলেন দেমেতরিও আলবার্তিনি, আলেসান্দ্রো কোস্তাকুর্তা এবং পাওলো মালদিনির মতো বিশ্বসেরা সব ডিফেন্ডাররা। কিন্তু ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেন্স লাইনকে একাই নাচিয়ে ছেড়েছিলেন ওকোচা। পুরো ম্যাচে একে একে ১৫ বার তিনি ইতালীয় ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে বল নিয়ে বেরিয়ে যান। বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি ম্যাচে কোনো খেলোয়াড়ের এত বেশি সফল ড্রিবলিং করার রেকর্ড আর নেই।

এক ম্যাচে ওকোচার পর ড্রিবলিংয়ের রেকর্ডে দ্বিতীয় স্থানে আছেন ব্রাজিলের জাইরজিনহো। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ১৩টি ড্রিবলিং করেছিলেন তিনি। এরপর তৃতীয় স্থানে আছেন ইংল্যান্ডের পল গাসকোইন। ১৯৯০ সালে ক্যামেরুনের বিরুদ্ধে তিনিও ১৩টি ড্রিবলিং করেছিলেন।

এছাড়া এক ম্যাচে ১২টি সফল ড্রিবলিং করে যৌথভাবে তালিকায় আছেন পর্তুগালের ইউসেবিও, নেদারল্যান্ডসের ইয়োহান ক্রুইফ, ইতালির সান্দ্রো মাজোলা, আর্জেন্টিনার দিয়েগো ম্যারাডোনা এবং জার্মানির তরুণ তারকা জামাল মুসিয়ালা।

এক ম্যাচে ড্রিবলিংয়ের রেকর্ডে ওকোচা সেরা হলেও, বিশ্বকাপের একটি নির্দিষ্ট আসরে সবচেয়ে বেশি ড্রিবলিং করার রেকর্ডটি আর্জেন্টিনার মহানায়ক দিয়েগো ম্যারাডোনার দখলে। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে একাই ৫৩টি সফল ড্রিবলিং করেছিলেন তিনি। যে রেকর্ড আজ পর্যন্ত কেউ ভাঙতে পারেনি।

অন্যদিকে, বিশ্বকাপের পুরো ইতিহাস জুড়ে সব আসর মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি ড্রিবলিং সম্পন্ন করার রেকর্ডটি আরেক আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসির দখলে। বিশ্বমঞ্চে রেকর্ড ১২৫টি সফল ড্রিবলিং করে এই তালিকার শীর্ষে রাজত্ব করছেন মেসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *