বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে জামায়াতনেতার বিরুদ্ধে মামলা

পটুয়াখালীতে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক বিধবা নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে গর্ভপাত করানোর অভিযোগে সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

গত ২২ জুলাই পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ওই নারী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় শহিদুল ইসলামকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির আজ বুধবার (২৯ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে ওই নারীর স্বামী মারা যান। এরপর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। এ সময় শহিদুল ইসলাম তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং তাঁর সন্তানকে দেখাশোনার আশ্বাস দেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৪ মার্চ শহিদুল ইসলাম ওই নারীকে পটুয়াখালী শহরের শেরে বাংলা সড়কে তাঁর বোনের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। 

এজাহারে আরও বলা হয়, এতে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দেওয়া হলেও তিনি রাজি হননি। গত ১৮ মে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার কথা বলে তাঁকে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওষুধ খাওয়ানোর পর পরের দিন জ্ঞান ফিরলে তিনি জানতে পারেন, তাঁর গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই নারীকে শহরে এনে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ ও পরে গর্ভপাত করানোর অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে সদর থানাকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। তাই এ নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয়ভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, আদালতের আদেশের কপি এখনও পাওয়া যায়নি। কপি পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলার পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগের বিষয়ে মো. শহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানা যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *