স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে চায়। শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য কিংবা কথার ফুলঝুরি নয়, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান করতে চায় সরকার। শনিবার (১ আগস্ট) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত প্রায় ২০ বছর ধরে এই দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো যে অবহেলার শিকার হয়েছে, দেশের জনগণ যে বঞ্চনার শিকার হয়েছে, সব সেক্টরে, সব প্রতিষ্ঠানে যে সংকট তৈরি করা হয়েছে, সেই পুঞ্জীভূত সমস্যার সমাধানে সরকার কাজ করছে।’
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কামটির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর গত পাঁচ মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ, আমরা দিনরাত নিরলসভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি কীভাবে দেশের মানুষকে একটু স্বস্তি দেওয়া যায়, দেশের মানুষের জন্য একটু ভালো কিছু করা যায়। তার মধ্যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সে কারণে এবারের বাজেটে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ স্বাস্থ্যখাতে দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনার দেখেছেন, সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৯টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছেন, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ এবং সরকারি কর্মকর্তারাও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে সময় মতো সরকারি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন। আমাদের এই সরকার পুরোনো ধারার যে রাজনীতি, বক্তব্য রাখার যে রাজনীতি সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছে। যারা নতুন বন্দোবস্তের কথা বলেন, আমরা তাদের উদ্দেশে বলতে চাই-এটাই নতুন বন্দোবস্ত এবং নতুন বাংলাদেশের পথচলা।’
প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, ‘চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ঐতিহ্যবাহী একটি প্রতিষ্ঠান, এটি বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল কলেজে ৫০টির মতো অধ্যাপক পদ এবং সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপক পদে আরও ১৫০টি পদ শূন্য রয়ে গেছে। এটা দীর্ঘদিনের অবহেলার একটি চিত্র। আমাদের স্বাস্থ্য সমস্যাটা সামগ্রিক দিক থেকে দেখতে হবে।’
চট্টগ্রাম মেডিকেলের কিডনি রোগ বিভাগের অধ্যাপক ডা. ফয়েজুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন হৃদরোগ বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইফতেখারুল ইসলাম।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন, কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. আবদুর রব, সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মাসুদ করিম, হৃদরোগ বিভাগের অধ্যাপক ডা. ইব্রাহিম চৌধুরী, কলেজের ৬৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম ইমন, ৩৬তম ব্যাচের (বিডিএস) শর্মী বড়ুয়া, ৬৪তম ব্যাচের মোহাম্মদ নাজমুল সাকিব।
মতবিনিময় সভায় মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি দাওয়া তুলে ধরেন। তারা চট্টগ্রামের একটি পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ‘চিকিৎসক নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়নের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রতিমন্ত্রী তাদের বক্তব্য ধৈর্য সহকারে শোনেন এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
মতবিনিময় সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী চমেক হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি রোগী ও তাদের স্বজনদের সাথে কথা বলেন।