বাজারের নামকরণ নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ২, প্রতিপক্ষের বাড়ি-ঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাজারের নামকরণ কেন্দ্র করে দুপক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার পর আকবরনগর গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়লে আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল থেকে প্রতিপক্ষের ৫০ থেকে ৬০টি ঘরবাড়িতে ব্যপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

সকালে কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর গ্রামে গিয়ে এমন তাণ্ডবের চিত্র দেখা যায়। গতকাল সোমবার সংঘর্ষের পর গ্রেপ্তার ও মামলার ভয়ে আকবরনগর গ্রামের বাসিন্দারা বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। জনশূন্য সেই গ্রামেই প্রতিপক্ষের ক্ষুব্ধ লোকজন ঢুকে একের পর এক বাড়িতে লুটপাট চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে জানান স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ বিষয়ে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিমন বোস জানান, ভাঙচুর হওয়া কিছু বসতবাড়ির ধ্বংসস্তূপে কিছু অতিউৎসাহী লোক আগুন দিচ্ছে—এমন খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুই হত্যার ঘটনায় মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে এলাকায় আনা হয়েছে। আসরের পর জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দাফন-কাফন শেষ করে স্বজনরা মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়ায় যাবেন।

এর আগে সোমবার সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। এতে মিরারচর গ্রামের মাসুদ মিয়া ও হিরণ মিয়া নামের দুই ব্যক্তি নিহত হন এবং উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক লোক আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ও র‌্যাব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান শেলীর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ও রিজার্ভ ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। এই সংঘর্ষের কারণে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট এবং ওই রুটে রেলযোগাযোগ সাময়িক বন্ধ হয়ে শতশত যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের সীমান্ত সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ডের বাজারটির নাম ‘আকবরনগর’ হবে নাকি ‘মিরারচর’ হবে—তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই গ্রামের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। পূর্বেও এ নিয়ে একাধিকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়।

সর্বশেষ উত্তেজনা প্রশমনে গত রোববার (২৬ জুলাই) স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের উপস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন উভয় পক্ষকে নিয়ে এক বৈঠকের আয়োজন করে। সেখানে আগামী ৩ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়ে ১০ সদস্যের একটি সমঝোতা কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু প্রশাসনের সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করেই সোমবার সকালে উভয়পক্ষের শত শত লোক দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, যা শেষ পর্যন্ত জোড়া খুন ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগে গড়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *