বাংলদেশকে নিয়ে যা বললেন ইয়ান বিশপ

বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছে ২০০০ সালে। এরপর মাত্র একবারই অস্ট্রেলিয়া সফরে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। দীর্ঘ ২৩ বছর পর আবার অস্ট্রেলিয়া সফর করছে টাইগাররা। ছোট দল বলে অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ডের মতো ক্রিকেট পরাশক্তি দেশগুলো বাংলাদেশকে টেস্টে আমন্ত্রণ জানায় না। এ নিয়ে অনেকেরই আক্ষেপ ছিল।

বাংলাদেশ ‘ছোট দল’, মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে সেই কথার জবাবটা এবার দিয়ে দিল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গিয়ে তাদের হারিয়েছে টাইগাররা। ৪ দিনের ১১ সেশনের সবগুলোতেই ডমিনেট করেছে বাংলাদেশ। টাইগারদের এই সাফল্যের পর ক্যারিবীয় কিংবদন্তি ইয়ান বিশপ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সম্ভাবনাময় বাংলাদেশকে প্রাপ্য সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়ার সময় এসেছে এখন।

ডারউইনের ঐতিহাসিক টেস্টে ব্যাট-বল হাতে পূর্ণশক্তির অস্ট্রেলিয়াকে রীতিমতো পাত্তাই দেয়নি বাংলাদেশ। ম্যাচের দুই ইনিংসেই সব বিভাগে স্বাগতিকদের পেছনে ফেলে দুর্দান্ত দাপট দেখায় টাইগাররা। ফলে দ্বিতীয় ইনিংসে জয়ের জন্য স্রেফ ৫৭ রানের লক্ষ্য পেয়ে মাত্র ১ উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

বাংলাদেশের এই অবিস্মরণীয় জয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত ও আনন্দিত ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক তারকা ও জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ। নিজের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এবং দেশের মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক অর্জন। অতীতে যারা তাদের প্রাপ্য প্রশংসা বা স্বীকৃতি দিতে কার্পণ্য করেছে, এখন তাদের কাছ থেকে যথাযথ সম্মান পাওয়ার পূর্ণ অধিকার এই দলের রয়েছে।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই জয়ে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স করা মেহেদী হাসান মিরাজ, তানজিদ হাসান তামিম ও হাসান মাহমুদের পাশাপাশি বাংলাদেশ দলের কোচ ফিল সিমন্সেরও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বিশপ।

বিশপ বলেন, ‘মেহেদী, তানজিদসহ দলের অনেকেই এই জয়ে বড় অবদান রেখেছেন। তবে বিশেষ করে হাসান মাহমুদের কথা বলতেই হয়—পুরোপুরি ফিট থাকা সাপেক্ষে সে দীর্ঘদিন ধরেই নিখুঁত লাইন ও লেংথে বল করে যাচ্ছে। তার বোলিং অ্যাকশনও দারুণ পরিপাটি ও গোছানো। কোচ ফিল সিমন্স ও তার পুরো দলের জন্য আমি অত্যন্ত আনন্দিত। চমৎকার খেলেছে বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রানের পাহাড় গড়ে বাংলাদেশ। ফলে ২২৮ রানের বড় লিড পায় সফরকারীরা। দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিনের ব্যাটে ভর করে অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও তাদের ইনিংস থামে ২৮৪ রানে। ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৬ রান। সেই লক্ষ্য সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হকের ব্যাটে ভর করে অনায়াসেই টপকে যায় টাইগাররা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *