মরিচঝাঁপির ইতিহাস, সুন্দরবনের দুর্গম জনপদ আর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের রহস্যময় গল্প নিয়ে ফিরছে চরকির আলোচিত সিরিজ ‘ফেউ’। এবার দ্বিতীয় মৌসুম নয়, আগের গল্পের অসমাপ্ত অংশ যুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ রূপে আসছে ‘ফেউ কমপ্লিট সাগা’। আগামী ১২ নভেম্বর রাত ১২টায় চরকিতে মুক্তি পাবে ৯ পর্বের এই সিরিজ। ৩ নভেম্বর প্রকাশিত হয়েছে এর টিজার।
প্রথম মৌসুমের পর দর্শকদের মনে কয়েকটি প্রশ্ন রয়ে গিয়েছিল। সুনীল কি বেঁচে আছেন? সুন্দরবনের মৌয়াল থেকে জলদস্যু বাহিনীর সর্দার হয়ে ওঠা মার্শাল কি অধিকার আদায় করতে পারবেন? ডুমুরঝাঁপির মানুষগুলোর শেষ পর্যন্ত কী পরিণতি হবে? নতুন সিরিজে এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা সুকর্ণ শাহেদ ধীমান।
সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত কল্পকাহিনিটি লিখেছেন সুকর্ণ শাহেদ ধীমান ও রোমেল রহমান। চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন সুকর্ণ শাহেদ ধীমান ও সিদ্দিক আহমেদ। নির্মাতা জানান, ‘ফেউ কমপ্লিট সাগা’ মূল সিরিজের দ্বিতীয় মৌসুম নয়। প্রথম মৌসুমের কিছু অংশের সঙ্গে বাকি গল্প যুক্ত করে এটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হয়েছে। আগের পর্বে ইতিহাস, জনপদ, সেখানকার মানুষের সংকট ও রাজনীতির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছিল। এবার সব গল্প মিলবে একটি পরিণতিতে। ড্যানিয়েলের বাবাকে খোঁজার যাত্রা এবং মার্শালের রাজনৈতিক পরিচয় ও অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের শেষটাও দেখা যাবে। যারা প্রথম মৌসুম দেখেননি, তাঁরাও নতুন সিরিজ থেকে পুরো গল্প বুঝতে পারবেন বলে আশা নির্মাতার।
সিরিজটির গল্পের পটভূমি পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার দ্বীপ মরিচঝাঁপি। ১৯৭৯ সালে সেখানে উদ্বাস্তু উচ্ছেদ ও হত্যাকাণ্ডের ঐতিহাসিক ঘটনা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে কাহিনি নির্মিত হয়েছে। বাস্তব ইতিহাসের ছায়া থাকলেও এটি কল্পনানির্ভর গল্প। নির্মাতার ভাষ্য, দক্ষিণবঙ্গের মানুষের বীরত্ব, সংস্কৃতি ও সংগ্রামই সিরিজটির মূল আকর্ষণ।
২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় এক বছর ধরে খুলনা, চালনা, বটিয়াঘাটা, বাজুয়া, মোংলা ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন স্থানে হয়েছে শুটিং। সুন্দরবনের দুর্গম এলাকাতেও ধারণ করা হয়েছে দৃশ্য। সিরিজে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, তারিক আনাম খান, তানভীর অপূর্ব, তাহমিনা অথৈসহ অনেকে। খুলনা, বাগেরহাট ও বটিয়াঘাটার শতাধিক স্থানীয় শিল্পীও যুক্ত হয়েছেন এতে।
মার্শাল চরিত্রে অভিনয় করা মোস্তাফিজুর নূর ইমরানের কাছে চরিত্রটি একজন প্রকৃত সংগ্রামীর প্রতিচ্ছবি। তাঁর মতে, মার্শালের পোশাক, চেহারা, শারীরিক ভাষা ও আচরণে রয়েছে আলাদা গভীরতা। পুরো গল্প একসঙ্গে দেখার পর দর্শকেরা এর প্রকৃত রোমাঞ্চ উপভোগ করতে পারবেন বলেও আশা করছেন তিনি।
‘ফেউ’ শব্দের অর্থ শৃগাল। বাঘের পেছনে থেকে ডেকে তার আগমনের খবর জানায় এই প্রাণী। নির্মাতা সুকর্ণ শাহেদ ধীমানের মতে, গল্পের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভয় ও আতঙ্কের প্রতীক হিসেবেই নামটি বেছে নেওয়া হয়েছে। এবার সেই রহস্য ও সংগ্রামের গল্পের পূর্ণাঙ্গ পরিণতি দেখার অপেক্ষা দর্শকদের।