সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) উপেক্ষা করে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। বাজারে সরকার নির্ধারিত দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে ভোক্তারা।
সরকার নির্ধারিত নতুন মূল্য অনুযায়ী প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা, খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৯ থেকে ১৮০ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরকারি মূল্য ৯৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি চরভদ্রাসন উপজেলার সদর বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি মুদি দোকানে পাঁচ লিটারের রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেলের বোতলে এমআরপি ৯৭৫ টাকা উল্লেখ থাকলেও তা ৯৯০ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে প্রতি বোতলে ক্রেতাদের ১৫ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে।
কয়েকজন ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, বোতলের গায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য স্পষ্টভাবে লেখা থাকলেও অনেক দোকানি সেই দামে তেল বিক্রি করছে না। অতিরিক্ত দামের বিষয়ে জানতে চাইলে কেউ পরিবহণ খরচ, আবার কেউ সরবরাহ সংকটের অজুহাত দেখাচ্ছে।
স্থানীয় ভোক্তাদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত মূল্য কার্যকর করতে বাজারে নিয়মিত মনিটরিং এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। অন্যথায় সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে।
এ বিষয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কালাম বলেন, ‘সরকার যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দেয়, তখন তা অমান্য করে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমআরপির চেয়ে বেশি দামে সয়াবিন তেল বিক্রি সাধারণ ভোক্তার অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। বাজারে নিয়মিত মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করা জরুরি। পাশাপাশি ক্রেতাদেরও সচেতন হতে হবে এবং কোথাও অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি হলে প্রশাসনকে তা জানাতে হবে।’
এ বিষয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ বললেন, ‘সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ও প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাজার মনিটরিং কার্যক্রমও জোরদার করা হবে।’
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর প্রশাসনিক তদারকি নিশ্চিত করা গেলে এমআরপি উপেক্ষা করে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে এবং সাধারণ ভোক্তারা স্বস্তি ফিরে পাবেন।