পিএসকে বরখাস্ত করলেন জামায়াতের সেই এমপি

নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির মো. আতাউর রহমান বাচ্চুর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

রোববার (২৮ জুন) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ওই অব্যাহতি পত্র ফেসবুকে দেয়া হয়েছে। আদেশটি ২৬ জুন থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে।

আদেশে উল্লেখ করা হয়, দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে পিএস আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ২৮ জুন থেকেই এ আদেশ কার্যকর বলে গণ্য হবে।

এর আগে সংসদ সচিবালয়ের অর্থ শাখা-২ থেকে ১৮ জুন জারি করা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান মঞ্জরির একটি তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই তালিকায় নড়াইল-২ আসনের জন্য মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা ১০ জনের নামে বরাদ্দের তথ্য উল্লেখ ছিল।

ভাইরাল হওয়া তালিকায় এক নম্বরে হবোখালী গ্রামের ফাইজা, পিতা মো. বাচ্চুর নামে ১০ হাজার টাকা এবং আট নম্বরে ফাইজা, পিতা মো. আতাউরের নামে আরও ১০ হাজার টাকা অনুদানের উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে একটি নাম সংসদ সদস্যের মেয়ের বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, একজন সংসদ সদস্য বছরে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য ঐচ্ছিক তহবিল পান। তিনি শপথ নেওয়ার পর চলতি অর্থবছরে তার আসনের জন্য মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদ সচিবালয়ে তালিকা জমা দেওয়ার তাগিদ থাকায় তিনি ব্যক্তিগত সহকারীকে (পিএস) বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নাম সংগ্রহ করে জমা দিতে বলেন। তার ভাষ্য, পিএস পরে পরিচিত কয়েকটি নাম দিয়ে তালিকা জমা দিয়েছেন, কিন্তু তিনি তালিকাটি দেখার সুযোগ পাননি।

সংসদ সদস্য আরও বলেন, এখনও তিনি ওই অর্থ হাতে পাননি এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা অনুযায়ী পরবর্তীতে অনুদান বিতরণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নতুন তালিকা পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

সমালোচনার বিষয়ে আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘জনগণের হকের একটি পয়সাও আমি বা আমার পরিবারের কেউ আগামী পাঁচ বছরে স্পর্শ করবো না। যারা আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন, তাদের জন্যও আমার অফুরন্ত দোয়া রইল।’

এসএন/কে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *