অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতি স্থাপনকারীদের ধারাবাহিক হামলা এবং সামরিক বাহিনীর অভিযানের মধ্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুমকি দিয়ে বলেছেন, পশ্চিম তীরে আরও বড় পরিসরে হামলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে তার দেশ। খবর আলজাজিরার।
আজ রোববার (২৬ জুলাই) সাংবাদিকদের নেতানিয়াহু বলেন, “আমাদের নির্দেশনা ছিল গ্রামগুলোতে প্রবেশ করা, তল্লাশি চালানো, অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা এবং গ্রেপ্তার করা। ইসরায়েল সন্ত্রাসীদের ঘাঁটির বিরুদ্ধে আরও ব্যাপক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।”
এদিকে, ‘ইউথ এগেইনস্ট সেটলমেন্টস’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ঈসা আমরু বলেন, ইসরায়েলি হামলা নতুন কিছু নয়, তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তা আরও জোরদার হয়েছে।
ঈসা আমরু বলেন, ‘প্রতিদিন আমরা ইসরায়েলি সহিংসতা ও সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছি। একজন ফিলিস্তিনি হিসেবে আপনি যদি আপনার সন্তান, ঘরবাড়ি বা সম্পত্তি রক্ষা করার চেষ্টা করেন, তবে আপনাকে আক্রমণ করা হবে এবং পেটানো হবে, আটক করা হবে অথবা গুলি করা হবে।’
ঈসা আমরু জানান, কয়েক সপ্তাহ আগে তাকে মারধর করার পর এক বসতি স্থাপনকারী হুমকি দেওয়ার জন্য আবার তার বাড়িতে এসেছিল। সে তাকে বলেছিল, ‘আমি এখানে এসেছি তোমার বাড়ি দখল করতে এবং তোমাকে তাড়িয়ে দিতে। সরকার আমাদের, সামরিক বাহিনী ও পুলিশও আমাদের।’ ঈসা আমরু আরও বলেন, ‘আমরা একেই জাতিগত নিধন বা এথনিক ক্লিনজিং বলি।’
ঈসা আমরু যোগ করেন, ইসরায়েলি হামলার ভয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ২০টিরও বেশি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় তাদের এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। ঈসা আমরু বলেন, ‘তারা তাদের বসতি পুরোপুরি ছেড়ে চলে গেছে। আমরা এখানকার শত শত ফিলিস্তিনি পরিবারের কথা বলছি যারা তাদের ঘরবাড়ি, জমিজমা এবং ভিটেমাটি ছেড়ে চলে গেছে।’
কুসরা গ্রামের ভিলেজ কাউন্সিলের প্রধান আবদেল আজিম ওয়াদি নিশ্চিত করেছেন যে, রোববার ভোরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
আজিম ওয়াদি বলেন, ‘২০১১ সাল থেকে এই গ্রামটি বারবার হামলার শিকার হয়েছে এবং গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই হামলা আরও বেড়ে গেছে।’