পলাতক ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে জাতীয় ঐক্য দৃঢ় করতে হবে : মাহদী আমিন

পলাতক ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে ভিন্ন মতকে ধারণ করে জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মাহদী আমিন এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান সফল হয়। 

মাহদী আমিন বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে এই অভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়েছিল বিএনপির নেতা-কর্মীদের অভূতপূর্ব ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সব রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে ‘ফ্যাসিবাদ বনাম বাংলাদেশ’ এক নতুন মেরূকরণ ও জাতীয় ঐক্যের সৃষ্টি হয়েছিল। এতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ় নেতৃত্ব সংগ্রামকে সফল পরিণতির দিকে এগিয়ে নেয়।

দুই বছর পূর্তির প্রেক্ষাপটে ঐক্যের মাঝে অনাকাঙ্ক্ষিত দূরত্ব না রাখার আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘আমাদের নিজেদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও গঠনমূলক সমালোচনা থাকতে পারে, তবে কোনো অশালীন আচরণ না করে প্রজ্ঞা ও ইতিবাচকতার সঙ্গে ভিন্নমতকে ধারণ করতে হবে। ফ্যাসিবাদের প্রশ্নে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা আজ সময়ের দাবি।’

মাহদী আমিন আরও বলেন, ১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার যুদ্ধ। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয়; এর প্রকৃত নায়ক দেশের জনগণ। জনগণ যেমন ১৯৭১ সালের শহীদদের ভোলেনি, তেমনি ২০২৪ সালের বীর শহীদদেরও কোনোদিন ভুলবে না। একাত্তর, নব্বই ও চব্বিশের সংগ্রামকে ধারণ করেই আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, বিগত মেয়াদে ঘটে যাওয়া গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার স্বচ্ছ নিরপেক্ষ বিচারের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। একই সঙ্গে জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৩১ দফা, জুলাই সনদ, সংবিধান সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং শহীদ পরিবার ও আহতদের সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *