পর্দার ‘আম্মাজান’ খ্যাত শবনমের জন্মদিন আজ

বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে দীর্ঘ কয়েক দশক দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি। ষাটের দশকের শুরুতে রুপালি পর্দায় পা রেখে হয়ে উঠেছিলেন দুই বাংলার দর্শকের প্রিয় মুখ। একসময় পাকিস্তানের উর্দু সিনেমায়ও নিজের অভিনয়দক্ষতায় তৈরি করেছিলেন শক্ত অবস্থান। সেই কিংবদন্তি অভিনেত্রী শবনমের জন্মদিন আজ। ১৯৪৬ সালের এই দিনে ঢাকার নবাবপুরে জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রীর ৮১তম জন্মদিন আজ (১৭ আগস্ট)।  যাকে দর্শকের বিরাট অংশ মনে রেখেছেন ‘আম্মাজান’ হিসেবে।

শবনমের আসল নাম ঝর্ণা বসাক। ছোটবেলায় অভিনয় করার কোনো স্বপ্নই ছিল না তার। বরং ভাই-বোনদের সঙ্গে খেলাধুলায় মেতে থাকা ‘টমবয়’ স্বভাবের মেয়েটিই পরবর্তী সময়ে হয়ে ওঠেন রুপালি পর্দার জনপ্রিয় তারকা।

বড় বোন সন্ধ্যা বসাক নাচ শিখতেন। তাকে দেখে নাচের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় ঝর্ণারও। মেয়ের আগ্রহ দেখে বাবা তাকে ভর্তি করে দেন বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে। সেখানেই শুরু হয় তার নাচের প্রশিক্ষণ।

চলচ্চিত্রে তার আগমনও অনেকটা হঠাৎ করেই। ১৯৬১ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘হারানো দিন’ চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে ক্যামেরার সামনে প্রথম আবির্ভূত হন। এই সিনেমার মাধ্যমেই ‘শবনম’ নামে পরিচিত হন তিনি। তখন তিনি কলেজের ছাত্রী। এর পূর্বে তিনি এহতেশাম পরিচালিত ‘এ দেশ তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে নৃত্যশিল্পী হিসেবে বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন। 

এরপর ‘রাজধানীর বুকে’ সিনেমার একটি গানে অভিনয় করে নজর কাড়েন ঝর্ণা। তবে নায়িকা হিসেবে তার প্রথম সিনেমা মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘হারানো দিন’। 

এরই মধ্যে ‘চান্দা’ ও ‘তালাশ’-এর মতো সিনেমা জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় তার ব্যস্ততাও বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে অভিনয়ের ব্যস্ততায় পড়াশোনা আর চালিয়ে যেতে পারেননি।

বাংলা সিনেমার পাশাপাশি উর্দু চলচ্চিত্রেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন শবনম। বরং বাংলা সিনেমার চেয়ে উর্দু সিনেমাতেই বেশি অভিনয় করেছেন তিনি। পাকিস্তানের চলচ্চিত্রে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার ও স্বীকৃতি। অভিনয়ের জন্য দেশটির অন্যতম জনপ্রিয় নিগার পুরস্কার পেয়েছেন ১২ বার।

দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৯৯ সালে কাজী হায়াতের ‘আম্মাজান’ সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করে আবারও দর্শকের সামনে হাজির হন শবনম। সিনেমাটি তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। এই সিনেমার পর আর বড় পর্দায় দেখা যায়নি তাকে। তবে ‘আম্মাজান’ চরিত্রটি তাকে নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছেও পরিচিত করে তোলে।

বাংলা ও উর্দু মিলিয়ে শবনমের অভিনীত সিনেমার সংখ্যা প্রায় ১৮০টি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩-এ আজীবন সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তবে এখনো সেই পুরস্কার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হয়নি।

রুপালি পর্দায় কয়েক দশকের বর্ণিল পথচলার পরও শবনমের অভিনয় আজও দর্শকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। বিশেষ করে ‘আম্মাজান’ চরিত্রে তার অনবদ্য উপস্থিতি তাকে নতুন প্রজন্মের কাছেও করে রেখেছে স্মরণীয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *