দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে বর্তমানে বেশ দাপুটে অবস্থান বাংলাদেশের। টানা দুইবারের সাফ চ্যাম্পিয়ন ঋতুপর্না চাকমা-রুপনা চাকমারা। তবে জাতীয় দলে দাপট দেখালেও ক্লাব প্রতিযোগিতায় এতদিন তাদের খেলতে হতো বিদেশি ক্লাবের হয়ে।
কারণ, গত দুই আসরে বাংলাদেশের কোনো ক্লাবই এএফসি নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অংশ নেয়নি। তবে এবার সেই খরা কাটতে যাচ্ছে। আসন্ন এএফসি নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ‘রাজশাহী স্টারস’।
গত ১৯ মে ছিল এএফসি নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ক্লাব নিবন্ধনের শেষ দিন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রাজশাহী স্টারস তাদের আবেদন জমা দিয়েছে। এএফসি সাধারণত কয়েক দিন যাচাই-বাছাই করে এই আবেদন মঞ্জুর করে থাকে। সব ঠিক থাকলে এই টুর্নামেন্টে রেজিস্ট্রেশন করার মাধ্যমে দেশের প্রথম ক্লাব হিসেবে এশিয়ার মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে রাজশাহী স্টারস।
রাজশাহী স্টারস দেশের নারী ফুটবলে একেবারেই নতুন একটি দল। তবে প্রথমবার অংশ নিয়েই ঋতুপর্ণা চাকমা, আফঈদা খন্দকার, রুপনা চাকমাদের মতো একঝাঁক জাতীয় দলের তারকাদের দলে ভিড়িয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা।
নিয়ম অনুযায়ী, ঘরোয়া লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়ে এএফসির আসরে খেলার টিকিট পেলেও শুরুতে টুর্নামেন্টটিতে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ছেলেদের এএফসি ক্লাব প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন দল না খেললে রানার্স-আপ বা অন্য কোনো দল শর্ত পূরণ করে খেলার সুযোগ পায়। কিন্তু মেয়েদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সেই নিয়ম নেই। চ্যাম্পিয়ন দল না খেললে বাংলাদেশের কোটাই বাতিল হয়ে যেত।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) রাজশাহী স্টারসকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানায়। শেষ মুহূর্তে বাফুফের অনুরোধে সাড়া দিয়ে এশিয়ার মঞ্চে খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় ক্লাবটি।
বিদেশের মাটিতে খেলার চেয়ে নিজেদের চেনা কন্ডিশনে খেলতে বেশি আগ্রহী ক্লাবটি। রাজশাহী স্টারসের সভাপতি মোখছেদুল কামাল বাবু বলেন, ‘আমরা এই টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো বাংলাদেশে আয়োজন করতে চাই। বাফুফে-কে আমরা অনুরোধ করেছি, তারা যেন আমাদের স্বাগতিক (হোস্ট) করার জন্য এএফসির কাছে আবেদন করে।’
সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের আগস্ট মাসে শুরু হবে এএফসি নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগের তৃতীয় আসর।