দশজনের দল নিয়েও ইংলিশ ডার্বি জয় ম্যানসিটির

ম্যাচের শুরুতেই লাল কার্ড দেখে ১০ জনের দলে পরিণত হয়ে ম্যানচেস্টার ডার্বি কঠিন করে তুলল ম্যানচেস্টার সিটি। এরপর আর সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারল না তারা। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারছিল না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডও। বিপরীতে ভাগ্যে সহায়তায় সিটিকে এগিয়ে নিলেন গোলমেশিন আর্লিং হল্যান্ড। সেই ব্যবধান ধরে রেখে মৌসুমের প্রথম ডার্বি জিতল সিটি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে অনুষ্ঠিত মৌসুমের প্রথম ম্যানচেস্টার ডার্বিতে ১-০ গোলে জিতেছে সিটি।

পুরো ম্যাচে বল দখলে কিছুটা এগিয়ে থাকার পাশাপাশি আক্রমণেও বেশ আধিপত্য বিস্তার করেছিল স্বাগতিক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। কিন্তু ফিনিশিংয়ের চিরচেনা দুর্বলতা আরও একবার বড় ভোগান্তিতে ফেলল তাদের। ম্যাচে গোলের জন্য মোট ১৬টি শট নিলেও তার মধ্যে কেবল তিনটি গোলমুখে রাখতে পেরেছিল রেড ডেভিলরা। বিপরীতে সিটির নেওয়া ৬টি শটের মধ্যে দুটি ছিল লক্ষ্যে।

চলতি প্রিমিয়ার লিগ আসরে চার ম্যাচের চারটিতেই জিতে শতভাগ সাফল্যে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুই নম্বরে অবস্থান করছে সিটি। তাদের সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে আর্সেনাল।

গত সপ্তাহে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দারুণ এক জয় তুলে নিলেও ঘরোয়া লিগে এসে আবারও পরাজয়ের তেতো স্বাদ পেল ইউনাইটেড। চার রাউন্ড শেষে একটি করে জয় ও ড্রয়ে মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ১৩ নম্বরে ধুঁকছে তারা।

ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ডার্বির চিরচেনা উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে মাঠে। খেলা শুরুর মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মাথায় প্রথম ফ্রি-কিক দেখতে পায় দর্শকরা। সিটির এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ফাউল করেন ইউনাইটেডের দিয়েগো দালোত। এরপর দ্বিতীয় মিনিটেই ইউনাইটেড ডিফেন্ডার হ্যারি ম্যাগুইয়ার কড়া ফাউল করেন রায়ান শের্কিকে।

ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটে দুই দল মিলিয়ে মোট সাতবার ফাউলের ঘটনা ঘটে। তবে এর ঠিক পরেই ঘটে ম্যাচের সবচেয়ে বড় ও নাটকীয় ঘটনা।

ম্যাচের ২৩তম মিনিটে ফিল ফোডেনের কাছ থেকে বল কেড়ে নেওয়ার লড়াইয়ে তাকে চ্যালেঞ্জ জানান ইউনাইটেড কাপ্তান ব্রুনো ফার্নান্দেস। মাঠে পড়ে যাওয়ার পর ফোডেনকে আলতোভাবে একটি লাথি মারেন ইউনাইটেড অধিনায়ক।

আর এতেই মেজাজ হারিয়ে মাটিতে শুয়ে থাকা অবস্থাতেই ব্রুনোর পেটে সজোরে পা দিয়ে বসেন সিটি মিডফিল্ডার ফোডেন। সঙ্গে সঙ্গে রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন।

রেফারির এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঠেই তীব্র প্রতিবাদ জানায় সিটির খেলোয়াড়রা, আর সাইডলাইন ডাগআউটে নিজের চরম ক্ষোভ ঝাড়েন কোচ এনসো মারেস্কা। প্রতিপক্ষের দশজনের দলের সুবিধা আদায় করতে পারছিল না ইউনাইটেড। ফলে গোলশূন্য সমতায় থেকেই বিরতিতে যায় দুই দল।

অবশ্য প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে দারুণ একটি গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল স্বাগতিকরা। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে মার্কাস র‌্যাশফোর্ডের নেওয়া দারুণ বাঁকানো ফ্রি-কিক গোলরক্ষক জানলুইজি দোন্নারুম্মাকে পরাস্ত করলেও শেষ পর্যন্ত ক্রসবার এড়াতে পারেনি, কপাল পুড়ে ইউনাইটেডের।

দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হতেই দুই দলের আক্রমণেই ধার আরও কিছুটা বেড়ে যায়। ৫২তম মিনিটে লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ইউনাইটেড। কিন্তু আবারও দুর্ভাগ্যের দেওয়াল বাধা হয়ে দাঁড়ায় তাদের সামনে। এবার কবি মাইনুর নেওয়া দূরপাল্লার দুর্দান্ত শট সরাসরি গিয়ে লাগে পোস্টে।

ঠিক এর পরপরই পুরো স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে দিয়ে ম্যাচে নিজেদের প্রথম লক্ষ্যে নেওয়া শট থেকেই গোল আদায় করে নেয় ম্যানচেস্টার সিটি। বাঁ প্রান্ত থেকে এক সতীর্থের বাড়ানো ক্রস প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে দূরের পোস্টে পেয়ে যান ফাঁকায় থাকা আর্লিং হল্যান্ড। এরপর একদম দুরূহ কোণ থেকে নিখুঁত শটে দলকে এগিয়ে নেন নরওয়েজিয়ান এই স্ট্রাইকার।

যদিও প্রথমে সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা ওড়ান, তবে ভিএআর বা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির সাহায্য নিয়ে পরবর্তীতে গোল বহাল রাখেন মূল রেফারি। এই গোলের সুবাদে প্রিমিয়ার লিগে টানা তিন ম্যাচ এবং সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা চার ম্যাচে জালের দেখা পেলেন হলান্ড।

ঐতিহাসিক ম্যানচেস্টার ডার্বিতে এটি হল্যান্ডের ব্যক্তিগত অষ্টম গোল। চলতি প্রিমিয়ার লিগ আসরে এটি তার চতুর্থ গোল। আর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চলতি মৌসুমে তার মোট গোলসংখ্যা এখন দাঁড়াল ছয়টিতে।

এর কিছুদিন আগেই চেলসি ছেড়ে সিটিতে নাম লেখানো এনজো ফার্নান্দেস ৬৯তম মিনিটে দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করতেই পারতেন। কিন্তু তার জোরালো শট ঝাঁপিয়ে পড়ে ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক সানা লমেন্স। বল তার হাতে লেগে পোস্টে বাধা পায়। এর ঠিক চার মিনিট পর এমবুমোর হেড করা বলও সামান্যর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে ম্যাচ তখন গড়িয়েছে যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে। ঠিক সেই চরম নাটকীয় মুহূর্তেও সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ইউনাইটেড। ব্রুনো ফার্নান্দেসের বাড়িয়ে দেওয়া বলে নিজেদের জন্য ভালো জায়গা তৈরি করে দারুণ এক শটও নিয়েছিলেন এমবুমো। কিন্তু অবিশ্বাস্য এক সেভ করে সিটির জয় এবং পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করেন গোলরক্ষক দোন্নারুম্মা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *