বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার পুরো কৃতিত্ব নিজের দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পেছনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি ও কূটনীতি বড় ভূমিকা রেখেছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। খবর আল জাজিরার।
একইসঙ্গে ট্রাম্প জানান, তেহরানের অনুরোধে আগামীকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) কাতারের রাজধানী দোহায় দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, ‘ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ শুরুর আগের দামের চেয়েও এটি (তেলের দাম) এখন কম।’ পৃথক আরেকটি পোস্টে তিনি বলেন, ‘গ্যাসের দাম দ্রুত কমছে।’ এর পাশাপাশি নিজের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার চিত্র তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, ‘এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ জনমত জরিপের ফলাফল।’
আজ সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারস ব্যারেলপ্রতি ৭৩ ডলারে এবং ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ব্যারেলপ্রতি ৬৯ ডলারে লেনদেন হয়েছে। এটি ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর আগের মূল্যের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ কম।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়ে দুই দেশের সমঝোতাই বাজারে এই স্বস্তি এনেছে।
দোহায় জরুরি বৈঠক
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে চুক্তি কিছুটা ঝুঁকির মুখে পড়লেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুই পক্ষই আপাতত হামলা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে। ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘ইরান একটি বৈঠকের অনুরোধ করেছে। এটি আগামীকাল দোহায় অনুষ্ঠিত হবে।’
যদিও ট্রাম্প বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তবে এর আগে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি দাবি করেছিলেন, এই সপ্তাহে কাতারে মার্কিন ‘প্রযুক্তিগত দলের’ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁদের কোনো পরিকল্পিত বৈঠক নেই।
তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দুই পক্ষই আলোচনার টেবিলে ফিরতে সম্মত হয়েছে।