তানজিন তিশার জামিন শুনানিতে যা হলো

অনলাইন শপের শাড়ি সংক্রান্ত প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় জামিন পেয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা আত্মসমর্পণ পূর্বক আবেদনের শুনানি শেষে এই জামিন আদেশ দেন।

এদিন ঢাকার সিএমএম আদালতে তানজিন তিশা আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

শুনানিতে তিশার আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক বলেন, তানজিন তিশা একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এ জন্য আদালতে এসেছেন। বাদীর ‘অ্যাপোনিয়া’ পেজে শাড়ি দেখে কিনতে আগ্রহী ছিলেন। তখন বাদীপক্ষ তিশাকে বলেন, আমরা একটি শাড়ি দিচ্ছি। আমাদের পেজ মেনশন দিয়ে পোস্ট দিয়েন। তানজিন তিশা তখন বলেন, ‘ঠিক আছে। শাড়ি পাঠান। আমি পেজে আপলোড দেব।’ তিনি ভিডিও আপলোডও করেছেন। পিকচারও আপলোড করবেন বলেছিলেন। এরই মধ্যে বাদী মামলা করে দিয়েছেন কোর্টে। 

আইনজীবী আরও বলেন, ‘তিশা খুবই ফেমাস একজন অভিনেত্রী। সামনে একটা বড় পর্দার সিনেমা হাতে নিয়েছেন। তাকে জামিন দেন।’

এ সময় পেজ থেকে নেওয়া সেই শাড়ি আদালতে উপস্থাপন করে দেখান আসামিপক্ষের আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক। তিনি বলেন, এই দেখেন সেই শাড়ি। আসামি শাড়ির ভাজও ভাঙেননি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুকুল শুনানিতে বলেন, একটু আগে বলা হলো শাড়ি পরে ভিডিও আপলোড করেছেন তানজিন তিশা। এখন বলা হচ্ছে, শাড়ির ভাজ ভাঙা হয়নি। শাড়ির ভাজ না ভাঙলে বা প্যাকেট থেকে না খুললে, ভিডিও করল কীভাবে ?

আইনজীবী আরও বলেন, এমনি এমনি মামলা হয়নি। আগে আসামিকে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মামলাটি ডিবি তদন্ত করছে। ডিবি পুলিশ বার বার ডাকলেও তানজিন তিশা হাজির হননি। তিনি প্রতারণা করেছেন। মামলাটি জামিন অযোগ্য ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে। আইন সবার জন্য সমান। অভিনেত্রীদের জন্যও সমান। তাকে জেল-হাজতে আটক রাখার আবেদন করছি।

নথি থেকে জানা গেছে, অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি সংগ্রহ করেন তানজিন তিশা। শাড়িটির প্রচারণা চালানো এবং মূল্য পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *