জুলাইকে ইতিহাসের পাতায় তুলে ধরার আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতার

জুলাই গণঅভুত্থ্যানকে ইতিহাসের পাতায় তুলে ধরার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন সংসদের বিরোদীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।তিনি বলেন, এ কাজটি সরকারকেই করতে হবে। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী রয়েছেন, তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব দেবেন। এছাড়া জুলাই অধিদফতরের উদ্যোগে শহীদদের প্রোফাইল এবং আহত ও পঙ্গু ব্যক্তিদের তথ্য ইতিহাসের অংশ হিসেবে সংরক্ষণের যে কার্যক্রম চলছে, সেটিকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকারি দল থেকেও বলছি, জুলাই আমাদের; বিরোধী দল থেকেও বলছি, জুলাই আমাদের। তাই জুলাই যেন সত্যিকার অর্থেই সবার হয়ে ওঠে, সেটাই আমরা দেখতে চাই।

প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আগামী ৫ আগস্ট জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি দেশের আপামর মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল। এছাড়া জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন গঠনের বিষয়েও সরকারের আশ্বাসকে স্বাগত জানিয়ে আগাম ধন্যবাদ জানান তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বর্তমান জাতীয় সংসদ একটি ব্যতিক্রমী সংসদ। এটি সবসময়ই ‘মজলুমের মিলনমেলা’ হিসেবে পরিচিত। সংসদের কার্যক্রম যত সুন্দর ও গঠনমূলক হবে, ততই মানুষের হতাশা দূর হবে, রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা বাড়বে এবং দেশ গঠনে সবাই আরও বেশি অনুপ্রাণিত হবে।

তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের বন্যায় চারটি বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। প্রাণহানির ঘটনাগুলোর বেশিরভাগই ওই বিভাগে ঘটেছে। এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে গুরুত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সংসদের পরিবেশ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, প্রথম দিনই তারা অতীতের নেতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সংসদে অবশ্যই সমালোচনা হবে, তবে তা সংসদীয় শিষ্টাচার ও বিধিবিধান মেনেই হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং তাতে তিনি আংশিকভাবে সন্তুষ্ট। তবে এখনও কিছু নেতিবাচক প্রবণতা রয়ে গেছে উল্লেখ করে সেগুলোও দূর হয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জাতীয় সংসদ যদি দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষক না হয়, তবে বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতি অবশ্যই বিদায় নেওয়া সম্ভব। তবে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বা পক্ষপাতিত্ব যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে দুর্নীতি নির্মূলের কোনো সুযোগ নেই।

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *