চীনের অর্থনীতি চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে প্রত্যাশার চেয়ে কম হারে বেড়েছে। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৪.৩ শতাংশ। এটি ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে ত্রৈমাসিক জিডিপি তথ্য প্রকাশ শুরু হওয়ার পর অন্যতম দুর্বল প্রবৃদ্ধির হার।
প্রবৃদ্ধির এই হার সরকারের নির্ধারিত ৪.৫ থেকে ৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার নিচে রয়েছে। এর আগে ২০২২ সালের শেষ প্রান্তিকে চীনের প্রবৃদ্ধি এর চেয়েও কম ছিল, যখন দেশটি কঠোর কোভিড-১৯ বিধিনিষেধের মধ্যে ছিল।
তবে একই সময়ে চীনের রপ্তানি খাতে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। জুন মাসে দেশটির রপ্তানি বেড়েছে ২৭ শতাংশ। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই বৈপরীত্য দেখাচ্ছে যে চীনের অর্থনীতি ক্রমেই বিদেশে পণ্য বিক্রির ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠছে, দেশের অভ্যন্তরে ভোক্তা চাহিদা ও বিনিয়োগ দুর্বল রয়েছে।
জুন মাসে চীনের গাড়ি রপ্তানি প্রথমবারের মতো মাসে ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরে গাড়ি বিক্রি কমেছে ১৬ শতাংশের বেশি। গাড়ি বাদ দিলে খুচরা বিক্রি বেড়েছে ৩ শতাংশ, তবে অর্থনীতির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে ভোক্তা ব্যয় আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
চীনের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের আসন্ন বৈঠকে নতুন কোনো অর্থনৈতিক প্রণোদনা বা সহায়তা কর্মসূচির ঘোষণা আসে কি না, তা এখন পর্যবেক্ষণ করছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, রপ্তানিনির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ ভোগ ও বিনিয়োগ বাড়াতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
চীনা অর্থনীতিবিদ লি দাওকুই সতর্ক করে বলেছেন, স্থানীয় সরকারগুলো, যারা একসময় প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি ছিল, এখন অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত অবকাঠামোসহ স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগ ৪ শতাংশের বেশি কমেছে।
লি দাওকুই বলেন, এ ধরনের বিনিয়োগ পতন চীনের ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল ঘটনা। বিনিয়োগ হ্রাস ও বেকারত্বের সমস্যা দ্রুত সমাধান না করা হলে দেশের অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনা আবার বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নভেম্বর মাসে বর্তমান বাণিজ্যিক বিরতি শেষ হওয়ার পর নতুন করে শুল্ক আরোপ করা হলে চীনের রপ্তানি ও উৎপাদন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবও চীনের রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। যদিও জ্বালানি মজুত ও বিভিন্ন উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করার কারণে চীন আপাতত বড় ধাক্কা সামলাতে পেরেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে চীনের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪.৭ শতাংশ, যা দেশটির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রয়েছে। তবে অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এসএন/পিডিকে