শেষ বাঁশি বাজতেই আবেগ আর ধরে রাখতে পারেননি ইকুয়েডরের প্রধান কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে। নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে রেফারির শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গেই ব্যারিয়ার টপকে গ্যালারিতে থাকা পরিবারের সদস্যদের কাছে ছুটে যান তিনি। প্রিয়জনদের আলিঙ্গনে যেন ছিল স্বস্তি। আনন্দ আর কঠিন এক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার তৃপ্তি।
জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল শুধু নকআউটে ওঠার লড়াই নয়। বেকাসেসের কোচিং ভবিষ্যতেরও পরীক্ষা। ম্যাচের আগে আর্জেন্টাইন এই কোচ ঘোষণা দিয়েছিলেন, ইকুয়েডর শেষ ষোলোতে উঠতে না পারলে তিনি পদ ছেড়ে দেবেন। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর সমর্থকদের ক্ষোভ এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার খবর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
ম্যাচের অনেকটা সময় পর্যন্ত বিদায়ের শঙ্কাই ঘিরে ছিল বেকাসেসকে। কিন্তু সংকটের মুহূর্তে দারুণ লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দেয় ইকুয়েডর। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে দলটি।
বিবিসিতে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালান শিয়েরারের মতে, এই জয় না এলে বেকাসেসের দায়িত্বে থাকা কঠিন হয়ে পড়ত। তবে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে তিনি যে প্রতিক্রিয়া চেয়েছিলেন, সেটি তারা মাঠে দুর্দান্তভাবেই দেখিয়েছে। তাই শেষ বাঁশির পর পরিবারের সঙ্গে তার আবেগঘন উদযাপন ছিল একজন লড়াকু কোচের প্রাপ্য পুরস্কার।