জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা, আইনজীবী শফিক নজরুল রিমান্ডে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের মেয়ের ছবি ব্যবহার করে চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার মামলায় অ্যাডভোকেট শফিক নজরুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিকে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, বার কাউন্সিল পরীক্ষা ও সরকারকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে আসামি দীর্ঘদিন ধরে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে জাইমা রহমান ও অ্যাটর্নি জেনারেলের মেয়ের ছবি ব্যবহার করেন ও ফেসবুকে চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দেন। রিমান্ডে নিলে চক্রের অন্যান্য সদস্য ও অর্থ লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য উদঘাটন করা যাবে।

এ সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে আসামি শফিক নজরুল বলেন, ‘আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। কোথায় কার কাছ থেকে টাকা নিয়েছি প্রশ্ন বাবদ এটা কোথায় প্রমাণ নেই। কেউ কোনো প্রমাণ করতে পারবে না। আমি সাজেশন দিয়েছি পরীক্ষার আগে, ১০০টা প্রশ্নে ১০০টাই কমন পড়েছে। আমি একজন এক্সপার্ট। আমি কি সাজেশন পরীক্ষার আগে, ১০০টা প্রশ্নে ১০০টাই কমন পড়েছে। আমি একজন এক্সপার্ট। আমি কি সাজেশন দিতে পারব না? এটা মিথ্যে মামলা। আমাকে অর্থ মামলায় গ্রেপ্তার করেছে কাল। তারপর বেঁধে রেখেছে। পুলিশের কী এই ক্ষমতা আছে?’ পরে আদালত তার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। এসময় আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের আবেদন বাতিল পূর্বক জামিনের আবেদন করেন। এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষে জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে শুনানি করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম জামিনের আবেদন নাকচ করে রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায় , শফিক নজরুল ‘LAW DOCTOR’ পেজের মাধ্যমে ‘১০০টি এমসিকিউ পড়লেই নিশ্চিত পাস’ এমন বিজ্ঞাপন প্রচার করতেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেকে প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করতেন এবং পাস করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ দাবি করতেন। এক ভুক্তভোগীর অভিযোগে বলা হয়, ৮ লাখ টাকা দাবি করে ধাপে ধাপে তার কাছ থেকে ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয়। পরে গত ১২ জুনের বার কাউন্সিল পরীক্ষায় তিনি অকৃতকার্য হলে প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরবর্তীতে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *