বিশ্বকাপ ফাইনালে হার, অবসর নিয়ে জোর গুঞ্জন, এরপর দীর্ঘ নীরবতা! এমন আলোচনার মধ্যেই প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে দেখা দিলেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে দেখা গেছে নিজের পারিবারিক ক্লাব লিওনেস এফসির ম্যাচে।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ০-১ গোলে হারের পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন লিওনেল মেসি। ম্যাচ শেষে চোখের জল আর ভক্তদের উদ্দেশে দেওয়া আবেগঘন বার্তা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। সেই ঘটনার এক সপ্তাহ পর এবার প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে দেখা গেল আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে। তবে খেলতে নয়, খেলা দেখতে!
বিশ্বকাপ ফাইনালের দুই দিন পর নিজ দেশ আর্জেন্টিনায় ফেরেন মেসি। দলের অন্য সদস্যরা একসঙ্গে ফিরলেও তিনি আলাদাভাবে রোজারিওতে নিজের বাড়িতে চলে যান। গত কয়েক দিন জনসমক্ষে দেখা না গেলেও অবশেষে শনিবার সন্ধ্যায় রোজারিওর পাশের শহর অরোইয়ো সেকোতে হাজির হন তিনি। তবে ফুটবল খেলতে নয়, পারিবারিক ক্লাব লিওনেস এফসির ম্যাচ উপভোগ করতেই স্টেডিয়ামে যান আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
আর্জেন্টিনার একটি রেডিও স্টেশনে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, রোজারিও স্টেডিয়ামের ব্যালকনিতে কালো রঙের হুডি পরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ দেখছিলেন মেসি। তাকে দেখতে পেয়ে দর্শকেরা উচ্ছ্বাসে তার নাম ধরে স্লোগান দিতে থাকেন। জবাবে হাত নেড়ে সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানান তিনি। কাদেনা ৩ তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে জানায়, অরোইয়ো সেকোতে লিওনেস এফসির ম্যাচ দেখতে গিয়ে মেসি তাদের জন্য বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তাও দিয়েছেন।
লিওনেস এফসি মূলত মেসির পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি ক্লাব। এর সভাপতি তার বড় ভাই মাতিয়াস মেসি। আর্জেন্টিনার চতুর্থ বিভাগের এই ক্লাবটির হোম ভেন্যু আন্তোনিও দি জাকোমো স্টেডিয়ামেই উপস্থিত ছিলেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী ফুটবলার।
এদিকে আর্জেন্টিনার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই নিয়ে ফেলেছেন মেসি। যদিও আগামী কয়েক মাস জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন, তবে ২০৩০ বিশ্বকাপে তাকে আর দেখা যাবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। সে সময় তার বয়স হবে ৪৩ বছর।
এরই মধ্যে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) মেসির জন্য একটি জাঁকজমকপূর্ণ বিদায়ী ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। বিইএন স্পোর্টসে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানোর সুযোগ করে দিতে চায় সংস্থাটি। যদিও সেই ম্যাচের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখতে না পারলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে আবারও উজ্জ্বল ছিলেন মেসি। আট ম্যাচে আট গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। এছাড়া বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১২টি অ্যাসিস্টের নতুন রেকর্ডও গড়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১-এ, যা সর্বকালের তালিকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই তালিকায় ২২ গোল নিয়ে শীর্ষে কিলিয়ান এমবাপে!
এসএন/পিডিকে