চলতি মাসেই বিদায় নিচ্ছেন সাহাবুদ্দিন, নতুন রাষ্ট্রপতি কে?

চলতি মাসেই স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি সিঙ্গাপুর যেতে পারেন বলে জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার এ ব্যক্তিগত অভিপ্রায়ের কথা বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নিকটজনদের জানিয়েছেন। গতকাল সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের এ সংক্রান্ত বিষয়ে স্ট্যাটাসের পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি আলোচনায় আসে।

তবে একজন সিনিয়র সচিবের নাম সম্ভাব্য পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে হঠাৎ করে আলোচনায় এসেছে। যদিও এর আগে এ পদের জন্য বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েকজনের নাম আলোচনায় ছিল। তবে রাষ্ট্রপতির এ অভিপ্রায়ের বিষয়ে সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা অভিমত পাওয়া যায়নি।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের অভিপ্রায় ও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বঙ্গভবনের একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি খুবই অসুস্থ। এ অবস্থায় তার দায়িত্ব অব্যাহত রাখা অসম্ভব। চলতি মাসেই দুদফায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছেন তিনি। তার সিটি স্ক্যান ও এমআরআই রিপোর্ট ভালো আসেনি। হৃদরোগজনিত দুর্বলতার পাশাপাশি তার নিউরোলোজিক্যাল সমস্যা ধরা পড়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের টিম রাষ্ট্রপতিকে অতি দ্রুত উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি তাকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকার কথাও বলেছেন তারা। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, এ মুহূর্তে তার চিকিৎসাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে পরিবারও।

ওই কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি যুক্তরাজ্য থেকে মেডিকেল চেকআপ করে এসেছেন। এখন আবার চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাওয়ার কথা বলা শোভনীয় হবে না। রাষ্ট্রেরও কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। প্রক্রিয়া শেষে চলতি মাসেই তিনি বঙ্গভবন ছাড়বেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

জুলাই বিপ্লবের পর থেকেই মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার শাসনামলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবি ওঠে। তার পদত্যাগের দাবিতে ওই সময় জুলাই বিপ্লবীরা একাধিকবার বঙ্গভবন ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি পালন করেন। রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দিতে ওই সময় অন্তর্বর্তী সরকারেরও সায় ছিল বলে জানা যায়।

তবে রাষ্ট্রপতি চলে গেলে ‘সাংবিধানিক সংকট হবে’ এক বা একাধিক দলের এমন যুক্তির কারণে শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। অবশ্য পদত্যাগ নিশ্চিত করা না গেলেও ওই সময় রাষ্ট্রপতিকে অনেকটাই একঘরে করে রাখা হয়েছিল বলে জানা যায়।

বিএনপির নেতৃত্বে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথমদিকে হাসিনার ‘আস্থাভাজন’ রাষ্ট্রপতিকে বিদায় দেওয়ার আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু ‘সেফ এক্সিট’ ও ‘চতুর্দশ জাতীয় নির্বাচন’র সময় রাষ্ট্রপতি পদে কে থাকবেন এমন আলোচনা সামনে এলে তা বেশিদূর আগায়নি। এ সময় সরকার রাষ্ট্রপতির বিষয়ে কিছুটা ‘সফট’ হন বলেও জানা গেছে।

তবে লন্ডন সফরের পর সরকারের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির দূরত্ব তৈরি হয়। সরকারের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়, সফরে হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতি যোগাযোগ করেছেন। লন্ডন আওয়ামী লীগের এক নেতার মাধ্যমে তিনি ওই সময়ে ভারতে পলাতক হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথাও বলেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ও রাষ্ট্রপতির সম্পর্কের চরম অবনতি হয়। অর্থবিল সই ও বাজেট অধিবেশন প্রত্যক্ষণ করতে গত ১১ জুন রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদে গেলে সরকারের সংশ্লিষ্ট্র কেউ তার সঙ্গে সাক্ষাতও করেননি বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *