দেশে একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াত আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন। তিনি বলেন, গণভোট মেনে নিন, মানুষের রায়ের প্রতি সম্মান দেখান। নাহলে মনে রাখবেন, মানুষের রায়কে উপেক্ষা করে জোর করে যদি শাসনব্যবস্থা চালাতে চান, তাহলে এই জনগণ আপনাদের সামনে হিমালয় পর্বতের মতো দাঁড়িয়ে যাবে।
শুক্রবার (১৯ জুন) নারায়ণগঞ্জের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমীর বলেন, ইতোমধ্যে সরকার অনেকগুলো অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের দিকে কালো হাত বাড়ানো, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যোগ্য ভিসিদের সরিয়ে দলের একান্ত অনুগত কর্মীদের ভিসি হিসেবে নিয়োগ এবং জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিজেদের দলীয় ক্যাডারদের প্রশাসক হিসেবে বসিয়েদেওয়া হয়েছে। এভাবে বাংলাদেশে একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা চলছে।
গণভোটের রায় নিয়ে তিনি বলেন, আমরা সংসদে নোটিশ দিয়ে ৬৮ বিধিতে আলোচনা করেছিলাম। গণভোট যাতে হারিয়ে না যায় এবং গণভোটকে যেন সম্মান দেখানো হয়, সে কথা বলেছিলাম। আমরা বলেছিলাম, যারা জনগণের রায়কে সম্মান করে না, তারা কখনও গণতন্ত্রপন্থী হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের দাবি হচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়কে সম্মান করা। যেহেতু প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছে, অতএব সরকারকে সংস্কার প্রস্তাবের সব বিষয় বাস্তবায়ন করতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ২৪ হয়েছিল বলেই ২৬ সালের নির্বাচন হয়েছে। ২৪ না হলে ২৬ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না।
তাদের রক্তের বিনিময়েই আমরা সরকারি ও বিরোধীদল হয়েছি। আমি অনুরোধ করবো এসব শহীদদের কেউ যেন খাটো করে না দেখেন।
জামায়াত আমির বলেন, আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই ১৯৪৭, ৫২ ও ৭১সহ বিভিন্ন সময় যারা বুক চিতিয়ে সংগ্রাম করেছেন।
২০২৪ সালে যারা শহীদ হয়েছেন আমি সেসব শহীদ পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
জামায়াত আমির বলেন, নারায়ণগঞ্জ একসময় প্রাচ্যের ড্যান্ডি ছিল।
নারায়ণগঞ্জ তার গৌরব হারিয়ে ফেলেছে। একসময় এটা সন্ত্রাসের নগরী হিসেবে পরিণত হয়েছিল। ত্বকী আপনাদের সন্তান, তার হত্যার বিচার কী পেয়েছেন? একজন নেতা ছিল, বলতো খেলা হবে। এখন কোথায় খেলছে? অহংকার ভালো নয়। নতুন কোনো গডফাদার এখানে তৈরি হোক আমরা চাই না।
তিনি আরও বলেন, আমরা চাই না আমাদের প্রিয় নারায়ণগঞ্জ অশান্তি ও চাঁদাবাজদের কবলে পড়ে থাকুক। ড্রেনের পানি দিয়ে যেমন অজু হবে না তেমনি ভালো মানুষ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন হবে না। ভালো মানুষ ছাড়া কী এ নগর গড়া যাবে? এমন মানুষ লাগবে যে আল্লাহকে ভয় করে। এমন মানুষ ছাড়া কী আমরা নিরাপদ নারায়ণগঞ্জ গড়তে পারবো? আমরা সৎ নেতৃত্ব কায়েম করবো জনগণকে তার অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে। আমাদের দাবি সব অনির্বাচিত প্রশাসক সরিয়ে দ্রুত নির্বাচন দেওয়া হোক। নারায়ণগঞ্জ মহানগরীতে অনির্বাচিত প্রশাসক সরিয়ে দিয়ে অনতিবিলম্বে নির্বাচন দেওয়া হোক। আগামী নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এখানে প্রার্থী দেবে। আমি আপনাদের নেতা আব্দুল জব্বারকে এখানে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করছি। ২৭টি ওয়ার্ডের প্রতিটি ওয়ার্ডে আমরা জনগণের সেবা করতে পারে এমন প্রার্থী আমরা উপহার দেব।
এসএন/কে