ব্রাজিল ফুটবল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল। সেই তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ার দলগুলোর সামর্থ্য ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা সীমিত হলেও মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের উজাড় করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে ভারত। ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে কলকাতার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানো ভারত-ব্রাজিলের সিনিয়র আন্তর্জাতিক ম্যাচে অবশ্য প্রথমার্ধেই দাপট দেখিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আক্রমণাত্মক ফুটবলে ভারতকে চাপে রেখে ৪৫ মিনিট শেষে ২-০ গোলে এগিয়ে রয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল, আক্রমণের গতি এবং সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে ছিল ব্রাজিল। তাদের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা দ্রুত পাস ও ব্যক্তিগত দক্ষতার মাধ্যমে ভারতীয় রক্ষণে একের পর এক চাপ তৈরি করতে থাকেন। বিশেষ করে ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও এস্তেভাও উইলিয়ান নিজেদের গতি ও দক্ষতায় ভারতীয় ডিফেন্ডারদের ব্যস্ত রাখেন। ফলে ম্যাচের বড় একটা সময় নিজেদের বক্সের আশপাশেই রক্ষণ সামলাতে হয়েছে ভারতকে।
১৯ মিনিটে প্রথমার্ধের অন্যতম সেরা সুযোগটি তৈরি করেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ব্রাজিলের আক্রমণ থেকে পাওয়া সুযোগে গোলমুখে জোরালো শট নেন তিনি। তবে ভারতের গোলরক্ষক দারুণ দক্ষতায় সেই প্রচেষ্টা প্রতিহত করেন। ফলে অল্পের জন্য গোল পাওয়া হয়নি ব্রাজিলের।
এরপর কিছুটা গুছিয়ে খেলার চেষ্টা করে ভারত। মাঝমাঠ থেকে দ্রুত বল এগিয়ে নিয়ে ব্রাজিলের রক্ষণে ওঠার চেষ্টা করে তারা। ২৭ মিনিটে সেই প্রচেষ্টার ফল হিসেবে একটি কর্নারও আদায় করে নেয় ভারত। যদিও কর্নার থেকে ব্রাজিলের রক্ষণে বড় কোনো বিপদ তৈরি করা সম্ভব হয়নি।
এর ঠিক পরের মিনিটেই ম্যাচের প্রথম গোল পেয়ে যায় ব্রাজিল। ২৮ মিনিটে আক্রমণ থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শটে ভারতের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ১১ নম্বর জার্সিধারী এস্তেভাও উইলিয়ান। তাঁর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।
গোল হজম করার পর ব্যবধান ফেরানোর চেষ্টা করে ভারত। তবে তাতে ব্রাজিলের আক্রমণের ধার একটুও কমেনি। বরং গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে তাদের আক্রমণভাগ। ভিনিসিয়াস, এস্তেভাওসহ ব্রাজিলের ফরোয়ার্ডরা বারবার ভারতের রক্ষণভাগে ঢুকে পড়তে থাকেন। একাধিকবার কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতে হয় ভারতীয় ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে।
৩৭ মিনিটে আবারও গোলের কাছাকাছি চলে যান ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ব্রাজিলের আক্রমণ থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে তার নেওয়া শট গোলের দিকে এগিয়ে গেলেও তা প্রতিহত করেন ভারতের গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডাররা।
তবে দ্বিতীয় গোলের জন্যে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ৪১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ব্রাজিল। এস্তেভাও উইলিয়ানের তৈরি করা আক্রমণ থেকে পাওয়া পাস কাজে লাগিয়ে গোল করেন পেদ্রো। তার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ভারতের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। শট এতই জোরালো ছিল যে, গোল কিপারের হাত থেকে বল বের হয়ে জালে জড়িয়ে যায়। ফলে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
দুই গোলের লিড পাওয়ার পরও আক্রমণাত্মক ফুটবল থেকে সরে আসেনি ব্রাজিল। প্রথমার্ধের শেষ দিকেও তারা ব্যবধান আরও বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যায়। ৪৪ মিনিটে আরেকটি আক্রমণ থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল তারা। তবে এবার ভারতীয় রক্ষণ দৃঢ়তার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলে নেয় এবং আর কোনো গোল হতে দেয়নি।
প্রথমার্ধের সঙ্গে যোগ করা হয় তিন মিনিট। এই সময়েও বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্রাজিল। অন্যদিকে ভারত নিজেদের রক্ষণ সংগঠিত রেখে সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়েও আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।