ইসিতে একগুচ্ছ দাবি জামায়াতের

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রচারে মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের (এমপি) অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞাসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব দাবি তুলে ধরেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকে জামায়াতের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থায় রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। এসব ব্যক্তি দায়িত্বে থেকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পেতে পারেন। তাই রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মন্ত্রী ও এমপিদের নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, যেহেতু এই নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না, তাই মন্ত্রী-এমপিদের কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশগ্রহণ রাজনৈতিক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে তাঁদের নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে দলটি।

বৈঠকে ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়েও আপত্তি জানায় জামায়াত। মিয়া গোলাম পরওয়ারের দাবি, সামসুল আলম অতীতে রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিএনপির নির্বাচনী আসন পুনর্নির্ধারণ কমিটির সদস্য ছিলেন। নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক পরিচিতি থাকা কোনো ব্যক্তির নিয়োগ নির্বাচনকে নিরপেক্ষ রাখার ক্ষেত্রে অন্তরায় হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, সরকার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিলেও এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আপত্তি জানানো উচিত ছিল। কমিশনের বক্তব্যে তাদের অসহায়ত্ব ও অক্ষমতার প্রতিফলন ঘটেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাবেরও বিরোধিতা করে জামায়াত। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দীর্ঘ ইতিহাসে শিক্ষকরা নিয়মিত অংশ নিয়ে আসছেন। জাতীয় নির্বাচনে তাঁদের প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ নেই, অথচ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব বৈষম্যমূলক এবং নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী। তিনি জানান, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন তাদের জানিয়েছে যে প্রস্তাবটি এখনো সরকারের কাছে পাঠানো হয়নি এবং বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।

জামায়াত কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদধারী নেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছে। দলটির মতে, নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিলে নির্বাচনী পরিবেশ ও নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রীর প্রকাশ্য বক্তব্য এবং সর্বোচ্চ আদালতের রায় ঘোষণার দিনই চট্টগ্রাম-২ আসনের গেজেট প্রকাশের ঘটনা কমিশনের ওপর রাজনৈতিক চাপের ইঙ্গিত বহন করে। তবে কমিশনের সদস্যরা সরাসরি তা স্বীকার না করলেও তাঁদের বক্তব্য ও আচরণে চাপের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। দেশের অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য তাদের ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু সেই ক্ষমতা প্রয়োগে কমিশন প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে পারছে না বলেই তাঁদের কাছে মনে হয়েছে।

বৈঠকে জামায়াতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জসিম উদ্দীন সরকার ও আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছাড়াও নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ এবং নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *