ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু হওয়ার দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই বক্তব্যের পর যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে শক্তিশালী উত্থান দেখা গেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) লেনদেন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ার সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ অবস্থানের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। সূচকটি জুন মাসে গড়া ৭ হাজার ৬২০ দশমিক ৯০ পয়েন্টের রেকর্ড স্পর্শের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। খবর আল জাজিরার।
প্রযুক্তিনির্ভর ন্যাসডাক কম্পোজিট সূচক ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে ৩০টি শীর্ষ কোম্পানির শেয়ার নিয়ে গঠিত ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে নতুন রেকর্ড উচ্চতায়, ৫৩ হাজার ১৭৮ দশমিক ৪১ পয়েন্টে পৌঁছেছে।
বাজারের এই ঊর্ধ্বগতিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ কোম্পানিগুলো। মেটা প্ল্যাটফর্মসের শেয়ার বেড়েছে ৬ শতাংশ। মাইক্রোসফট, অ্যামাজন ও অ্যালফাবেটের শেয়ার ৪ দশমিক ৪ থেকে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া এনভিডিয়ার শেয়ার বেড়েছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ এবং টেসলার শেয়ার বেড়েছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।
তবে এই ঊর্ধ্বগতিতে ব্যতিক্রম ছিল অ্যাপল, যার শেয়ারে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও কমেছে।
সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়। তবে আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এশিয়ার বাজার খোলার পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৮৫ ডলারে লেনদেন হয়, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।
ওয়াল স্ট্রিটে ইতিবাচক প্রবণতা থাকলেও আজ মঙ্গলবার এশিয়ার বেশ কয়েকটি শেয়ারবাজারে দরপতন দেখা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ০ দশমিক ৭ শতাংশ নেমেছে। হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক কমেছে প্রায় ০ দশমিক ৫ শতাংশ।
সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং নতুন করে সামরিক হামলার আগে তেহরানকে শেষবারের মতো সুযোগ দিতে চান তিনি।
এর একদিন আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলা চালানোর পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তেহরান বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা করছে না এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো বৈঠকও নির্ধারিত নেই।
ইসমাইল বাঘাই জানান, বর্তমানে ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অন্যান্য বিরোধ ভবিষ্যতের আলোচনার পরবর্তী ধাপে বিবেচনা করা হবে।