ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর পুনর্গঠন ও মেরামত কাজে ইরানের সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইতোমধ্যে একটি বিশেষ দলকে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণের নির্দেশ দিয়েছেন।
সূত্রটি জানায়, ইরানের হামলায় কুয়েত ও বাহরাইনসহ যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্রদের যে ক্ষতি হয়েছে, তার পুনর্গঠনে ইরানি সম্পদ ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যদি আরও ক্ষয়ক্ষতি হয়, সেক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা হতে পারে। খবর রয়টার্সের।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মহসিন রেজাই দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত না হলে যুদ্ধ অবসানের কোনো চুক্তি সম্ভব নয়।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন সপ্তাহের শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপের উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে সমুদ্রপথে চলাচলের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত কয়েকটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়।
জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, নিক্ষেপ করা সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি প্রতিহত করা হয়েছে এবং একটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।
চলমান উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি শনিবার (৬ জুন) তেহরানে পৌঁছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির জন্য একটি বিশেষ বার্তা পৌঁছে দেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চললেও এখনও কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। ইরান চাইছে তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, বন্দর অবরোধ তুলে নেওয়া এবং জব্দ সম্পদ ফেরত দেওয়া হোক। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সামরিক কর্মকাণ্ডে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে লেবাননেও সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। দক্ষিণ লেবাননে একটি সামরিক যানবাহনে ইসরায়েলি হামলায় দুই সেনা কর্মকর্তা ও এক সৈনিক নিহত হয়েছেন। লেবাননের সেনাবাহিনী হামলার নিন্দা জানিয়েছে, যদিও ইসরায়েল বলেছে তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি সম্পদ পুনর্বণ্টনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং চলমান শান্তি আলোচনা নতুন করে সংকটে পড়তে পারে।