ইয়েমেনে ফের বড় যুদ্ধের আশঙ্কা, হুথিদের হামলায় নিহত ৩০ সরকারি সেনা

ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩০ সরকারি সেনা নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দেশটির মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশে সরকারি বাহিনীর সামরিক ঘাঁটি ও সেনা সমাবেশে এসব হামলা চালানো হয়।

বছরের পর বছর ধরে চলা ইয়েমেনের সংঘাতের মধ্যে এটি হুথিদের পক্ষ থেকে সরকারি বাহিনীর ওপর সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় হামলা। হামলার পর দেশটিতে আবারও বড় ধরনের স্থলযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর আল জাজিরার।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, হামলায় ‘শত শত’ মানুষ নিহত এবং বিপুলসংখ্যক সামরিক ঘাঁটি ও অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস হয়েছে। তার দাবি, সৌদি আরবের বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ শনাক্ত করার পর এই হামলা চালানো হয়।

হুথি বিদ্রোহীরা ২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখল করার পর ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরু হয়। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দেশটির সরকারের পক্ষে যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে।

তবে ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ অনেকটাই থেমে ছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অবশ্য দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আবার বাড়তে শুরু করেছে।

আঞ্চলিক সংঘাতের অংশ হিসেবে হুথিরা সৌদি আরবের বন্দর ও লোহিত সাগরের জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর ঘোষণা দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক আহমেদ নাগির মতে, হুতিদের আন্তঃসীমান্ত হামলা ও সরকারি বাহিনীর ওপর আক্রমণ পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কাকে আর দূরের বিষয় রাখছে না। তবে দুই পক্ষ চাইলে এখনও সংঘাত নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি মনে করেন।

সানা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক আদেল দাশেলার মতে, মারিবের নিয়ন্ত্রণ হুতিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার ধারণা, সাম্প্রতিক উত্তেজনা থেকে বোঝা যাচ্ছে হুতিরা মারিবের তেল ও গ্যাসসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোর দিকে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আদেল দাশেলা বলেন, বড় ধরনের স্থলযুদ্ধ শুরু হলে এবারের সংঘাত আগের যুদ্ধগুলোর চেয়েও আরও ভয়াবহ হতে পারে।

সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের সদস্য শেখ ওসমান মাজালি বলেছেন, হুতিদের হুমকি অব্যাহত থাকলে ইয়েমেনে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার সম্ভাবনা নেই।

ইয়েমেনের রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাদ্দাম আল-হুরাইবি বলেছেন, বৃহস্পতিবারের হামলা হুতিদের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট বার্তা—যুদ্ধই তাদের অগ্রাধিকার।

তবে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক নাগি মনে করেন, সৌদি আরব ও ইয়েমেন সরকার এখনও সামরিক পাল্টা জবাবের বদলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল অনুসরণ করছে। কিন্তু হুতিদের হামলা অব্যাহত থাকলে তাদের ওপর আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার চাপ বাড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *