ইয়েমেনের বন্দরে ফের হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, নিহত ১১

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রােহীরা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী আল-মাখা (মোখা) এলাকায় নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ১১ জন নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সময় রোববার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় চালানো এই হামলা ছিল এর আগের হামলার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, নতুন দফার হামলায় তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছয়টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। আরও দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত না হেনে সাগরে পড়ে।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, হামলায় ওই এলাকায় থাকা সৌদি সেনাদের অবস্থান ও অস্ত্রের গুদাম লক্ষ্য করা হয়েছে।

এর আগে রোববার আল-মাখায় চালানো হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে আটজন সামরিক সদস্য ও তিনজন বেসামরিক নাগরিক। আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন।

হামলায় আল-মাখা বন্দরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্দর এলাকার বিভিন্ন ভবন ও বাণিজ্যিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্দর অবকাঠামো, বাণিজ্যিক পণ্য ও খাদ্যসামগ্রীরও ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

সরকারি বাহিনী আরও দাবি করেছে, বন্দরের দিকে এগিয়ে আসা একটি বিস্ফোরকবাহী চালকবিহীন নৌযানও তারা ধ্বংস করেছে।

নতুন হামলার সময় ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার আহ্বান জানিয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে গোলাবর্ষণের অভিযোগ করেছে।

হুথিরা দাবি করেছে, ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল ও তাইজ প্রদেশে সৌদি সমর্থিত বাহিনীর সামরিক শক্তি বাড়ানোর প্রতিক্রিয়ায় তারা এই হামলা চালিয়েছে।

হুথি রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য হিজাম আল-আসাদ দাবি করেছেন, বন্দরে বিস্ফোরণ, আগুন ও ধোঁয়ার কারণ সেখানে মজুত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম।

আল-মাখার পাশাপাশি উপকূলীয় শহর হোদেইদার দক্ষিণে আল-খোখা এলাকাতেও হামলা চালানো হয়েছে।

ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস-সংশ্লিষ্ট আল-জুমহুরিয়া টেলিভিশনের দাবি, রোববার আল-খোখায় একটি হুথি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হোদেইদার সরকারি গভর্নর আল-হাসান তাহেরের বাসভবনে আঘাত হানে। তবে তিনি হামলা থেকে বেঁচে গেছেন বলে জানানো হয়েছে।

ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই আল-মাখা ও পশ্চিম উপকূলে হুথিদের এই ধারাবাহিক হামলা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *