অস্ত্রের মজুত বাড়াতে মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পকে পেন্টাগনের নির্দেশ

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পেন্টাগন।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল স্থানীয় সময় শনিবার (৮ আগস্ট) এক বিবৃতিতে বলেন, যুদ্ধে প্রয়োজনীয় অস্ত্র দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ সংগ্রহের গতি বাড়ানোর দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে। হুমকির মাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় অস্ত্র দ্রুত সরবরাহ করাই এখন মূল লক্ষ্য। খবর আল জাজিরার। 

উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিভ ফেইনবার্গ বুধবার (৫ আগস্ট) প্রতিরক্ষা শিল্পের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এক স্মারকে ২১ দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা জমা দিতে বলেছেন।

স্মারকে তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে চলা অস্ত্র উন্নয়ন ও উৎপাদন প্রক্রিয়া এখন আর গ্রহণযোগ্য নয়। উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসূচির সময়সূচি দ্রুত কমিয়ে আনতে হবে।

ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাসের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্যাট্রিয়ট ও থাডের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্যাটিজিক এন্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় দুই হাজার৩৩০টি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ছিল। এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির সময় তা কমে দাঁড়ায় প্রায় এক হাজার ৩০টিতে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর মজুত এখন আনুমানিক ৭৫৯ থেকে ৮২৭টির মধ্যে।

অর্থাৎ যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত অন্তত ৬৫ শতাংশ কমেছে।

একইভাবে, যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪৫২টি থাড ইন্টারসেপ্টর ছিল। এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির সময় তা কমে ২৬২ থেকে ২৩২টির মধ্যে নেমে যায়। পরে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র পুনরায় মজুত করা হলেও বর্তমানে সংখ্যা আনুমানিক ২৩৪ থেকে ২৭৮টির মধ্যে।

সিএসআইএস-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যে তার মিত্রদের জন্য ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঠেকাতে আরও সতর্কভাবে ব্যবহারে বাধ্য করতে পারে।

অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন মেরিন কর্পস কর্নেল মার্ক ক্যানসিয়ান বলেন, এসব ইন্টারসেপ্টরের বিকল্প খুব বেশি নেই। তার ভাষায়, প্যাট্রিয়ট শেষ হয়ে গেলে শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগের খবর বারবার অস্বীকার করেছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ করে কিছু ধরনের গোলাবারুদের বিশাল মজুত রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন অস্ত্র তৈরি ও সরবরাহ করা হচ্ছে।

তবে পেন্টাগনের সাম্প্রতিক উদ্যোগ থেকে স্পষ্ট, দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোকে এখন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

এরই মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যন্ত্রাংশ উৎপাদন বাড়াতে লকহিড মার্টিন ও নর্থরপ গ্রুম্যানের সঙ্গে নতুন চুক্তিও করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ।

এদিকে কংগ্রেসে প্রতিরক্ষা ব্যয়সংক্রান্ত বিল আটকে রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন পেন্টাগনের বাজেট প্রায় ৯০০ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার করার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানের বিষয়ে আইনপ্রণেতাদের বিরোধিতার কারণে প্রস্তাবটি নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *