ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কা নিয়ে চা-বিরতিতে বাংলাদেশ

লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের আত্মাহুতিতেই ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কায় পড়েছিল বাংলাদেশ। এরপর উইকেটে এসেছিলেন তাইজুল ইসলাম। তাকেও দ্রুতই ফিরিয়ে দিয়ে সেই শঙ্কা আরও বাড়িয়েছেন মিচেল স্টার্ক। ম্যাচে তার শিকার ১০ উইকেট। সেই শঙ্কা নিয়েই চা-বিরতিতে গেছে বাংলাদেশ।

আজ রোববার (২৩ আগস্ট) ম্যাকাইয়ের গ্রেট বেরিয়ার রিফ অ্যারেনায় চা বিরতির আগে ৩৮ ওভার ব্যাট করে ৮ উইকেট হারিয়ে ৯৫ রান করেছে বাংলাদেশ। এখনো পিছিয়ে আছে ৫১ রানে। ৮০ বলে ২৯ রানে অপরাজিত আছেন মুশফিকুর রহিম আর ১০ বলে ৮ রানে তাসকিন আহমেদ।

লিটন-মিরাজ ফেরার পর উইকেটে এসেছেন তাসকিন আহমেদ। তিনি সঙ্গ দিচ্ছেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমকে। দুজন মিলে নবম উইকেট জুটিতে ১৭ বল খেলে ১৩ রান করেছেন তারা। ইনিংস হারের শঙ্কা কাটাতে এই জুটির ওপরই এখন অনেকটা ভরসা বাংলাদেশের।

লিটন-মিরাজের আত্মাহুতি, ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কায় বাংলাদেশ

৫১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে ছিল বাংলাদেশ। এরপর দলকে উদ্ধার করতে প্রয়োজন ছিল দায়িত্বশীল ব্যাটিং। শেস স্বীকৃত জুটি হিসেবে উইকেটে ছিলেন মুশফিকুর রহিম আর লিটন দাস। দায়িত্ব নিতে হতো তাদেরকেই। কিন্তু লিটন দাস যেন ফিরলেন নিজেকে আত্মাহুতি দিয়ে। একই কাজ করলেন মেহেদী হাসান মিরাজও। এতে ইনিংস ব্যবধানে হারার শঙ্কায় বাংলাদেশ।

চলমান অস্ট্রেলিয়া সফরে আগের দুই ইনিংসেও রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে গিয়েছিলেন লিটন। দলের বিপদে আজ নিজেকে প্রমাণ করার দায়িত্ব ছিল তার ওপর। কিন্তু মিচেল স্টার্ককে তিনি উইকেট উপহার দিলেন আর ক্যাচ শেখালেন স্লিপে থাকা বেউ ওয়েবস্টারকে। বাড়ালেন দলের বিপদ। অফস্টাম্পের অনেক বাইরের বল খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিলেন স্লিপে। ফিরলেন ১০ বল খেলে রানের খাতা খোলার আগেই।

আগের ইনিংসগুলোতে আশা দেখানো মিরাজও হাঁটলেন একই পথে। ফিরলেন আশাহত করে। লিটনের মতো একইভাবে তিনি ভুল করলেন প্যাট কামিন্সের বলে। অফস্টাম্পের বাইরের বাউন্সার বল কী ভেবে তিনি খেলতে গেলেন তার উত্তর হয়তো পরে মিরাজ নিজেও খুঁজবেন। ১১ বল খেলেন তিনি ফিরেছেন ১ রান করে।

এরপর হাসান মাহমুদ এসেছিলেন মুশফিককে সঙ্গ দিতে। কিন্তু কামিন্সের শরীর বরাবর আসা বলে ফ্লিক করতে গিয়ে দ্রুতই ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন তিনিও। ৬ বলে করেছেন ১ রান। একপ্রান্ত এখনো টিকে আছেন মুশফিক। কিন্তু আরেক প্রান্তের যাওয়া-আসার মিছিলে ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কায় পড়েছে বাংলাদেশ। 

দ্রুত উইকেট হারিয়ে বিপদে বাংলাদেশ

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম। দায়িত্ব নিতে পারেননি অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও। অল্প রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছে বাংলাদেশ।

তৃতীয় উইকেটে জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তামিম আর শান্ত। কিন্তু মধ্যাহ্নের বিরতির আগেই ভাঙে সেই জুটি। আশাহত করে ফেরেন তামিম। প্যাট কামিন্সের বলে স্টার্কের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে করেন ৩৪ বলে ৯ রান।

এরপর চতুর্থ উইকেটে জুটি বেধে দলকে টেনে তোলার চেষ্টায় ছিলেন অধিনায়ক শান্ত আর অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। বেশ খানিকটা সময়ই উইকেটে কাটান দুজন। কিন্তু মধ্যাহ্ন বিরতি থেকে ফিরে আর বেশি সময় এগোতে পারেননি শান্ত। ৪৬ বলে ৩১ রান করে নাথান লায়নের শিকার হয়ে ফেরেন তিনি। এতে ভাঙে ৮০ বলে ২৭ রানের জুটি।

স্টার্কের তোপে শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ

প্রথম ইনিংসে মিচেল স্টার্ক নামের গোলক ধাঁধাঁর কোনো উত্তর খুঁজে পায়নি বাংলাদেশ। প্রথম ঘন্টায়ই তার শিকার হয়েছিলেন পাঁচ ব্যাটার। দ্বিতীয় ইনিংসেও একই ঘটনার পূনরাবৃত্তির আভাস মিলছে। স্টার্কের কাছে পরাস্ত হয়ে শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে স্টার্কের পরপর দুই বলে দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। অসি পেসারের বাউন্সারে পরাস্ত হয়ে ক্যাচ দিয়েছেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। ৩ বলে মোটে ১ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে। অভিজ্ঞ মুমিনুল হক তো রানের খাতাই খুলতে পারেননি। স্টার্কের বলে সোজা বোল্ড ফিরেছেন তিনি।

শুরুর সেই ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন তামিম আর শান্ত। তৃতীয় উইকেটে ১৫ রানের অপরাজিত জুটি গড়েছেন তারা। বড় জুটি গড়তে হবে এই দুই ব্যাটারকে।

শরিফুলের কল্যাণে দেড়শর আগেই অস্ট্রেলিয়াকে থামাল বাংলাদেশ

আগের দিন চা-বিরতির পরই শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে যাওয়া-আসার মিছিল শুরু হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনে। কিন্তু একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই করে যাচ্ছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। আজ সকালে বেশ খানিকটা সময় বাংলাদেশকে অপেক্ষা করালেন তিনি। অবশেষে তাকে ফিরিয়ে প্রতিরোধ ভাঙলেন শরিফুল। এরপরই বাকি কাজটা সারলেন তাইজুল ইসলাম। লিড দেড়শর আগেই অস্ট্রেলিয়াকে থামাল বাংলাদেশ।

নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৫২.৩ ওভার ব্যাটিং করে ২১০ রান তুলেছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশকে লিড দিয়েছে ১৪৬ রানের। এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ।

আজ ২ উইকেট হাতে রেখে ১৬৫ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে অস্ট্রেলিয়া। আগের দিনের অপরাজিত দুই ব্যাটার ক্যামেরন গ্রিন আর আর নাথান লায়ন বেশ খানিকটা সময় অপেক্ষা করাল বাংলাদেশ। নির্বিষ বোলিংয়ে তাদের জবাব দিতে পারছিলেন না তাসকিন আহমেদরা।

ইনিংসের ৪৮তম ওভারে এসে সেই প্রতিরোধ ভাঙেন শরিফুল। দারুণ এক ডেলিভারিতে গ্রিনকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের একমাত্র হাফসেঞ্চুরিয়ান ফেরেন ১০৫ বলে ৬৭ রান করে।

এরপর শেষ উইকেট পেতেও বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৫ ওভার। শেষ উইকেট জুটিতেও ৩২ বলে ২৪ রান তুলেন লায়ন আর জস হ্যাজলউড। সেই জুটি ভেঙে অস্ট্রেলিয়ার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন তাইজুল ইসলাম। হ্যাজলউডকে সাদমান ইসলামের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান। ১৮ বলে ৬ রান আসে হ্যাজলউডের ব্যাট থেকে।

ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেছেন শরিফুল। অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ইনিংসে অলআউট করার কৃতিত্ব প্রায় পুরোটাই তার। যখনই অসিরা প্রতিরোধ গড়েছেন, তখনই তিনি এসে উইকেট তুলে নিয়েছেন। সবমিলিয়ে ১৫ ওভার বল করে ৪৮ রান দিয়ে শিকার করেছেন ৭ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশি কোনো পেসারের এক ইনিংসে এটাই সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *