ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড পরস্পর যোগসাজশে বেআইনিভাবে ক্যাপাসিটি রেটের পরিবর্তে অবৈধভাবে আইপিপি রেটের সুবিধা নিয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের গ্যাস বিল বাবদ ৯৮১ কোটি টাকা পরিশোধ না করে তা আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুদক।
দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক (বিঃ অনুঃ ও তদন্ত-১) মো. জাহাঙ্গীর আলম আদালতে দাখিল করা অভিযোগ অনুসন্ধানের অগ্রগতি প্রতিবেদনে একথা উল্লেখ করেন। গত ২৮ জানুয়ারি তিনি ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এ প্রতিবেদন দাখিল করেন।
এরআগে দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় গত ১৮ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক (বিঃ অনুঃ ও তদন্ত-১) মো. জাহাঙ্গীর আলম ইউনাইটেড গ্রুপ ও নেপচুন হাউজিং লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজাসহ ৩ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। বিদেশ গমন নিষেধাজ্ঞা পিটিশন মামলা নং-১২/২০২৬।
আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত ইউনাইটেড গ্রুপ ও নেপচুন হাউজিং লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজা, ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন হাসান রশিদ ও নেপচুন হাউজিং লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
আবেদনে বলা হয়, ইউনাইটেড গ্রুপ ও নেপচুন হাউজিং লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজা ওরফে রাজা মিয়াসহ অন্যান্য ১২ জনের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে জাল দলিলের মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগ রয়েছে। আসামিরা অবৈধ সম্পদ অর্জন করে বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন। তারা ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডকে অনিয়মের মাধ্যমে আইপিপি রেটে গ্যাস সরবরাহ করেছে। অভিযোগসমূহ অনুসন্ধানের জন্য অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে।
অনুসন্ধানকালে বিশ্বস্তসূত্রে জানা যায়, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া একান্ত প্রয়োজন।
এরপর ২২ জানুয়ারি ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন হাসান রশিদ একই আদালতে বিদেশ গমনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। উক্ত আবেদনেও উপর ২৫ জানুয়ারি শুনানি হয়। ওইদিন আদালত অভিযোগ অনুসন্ধানের অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য দুদককে নির্দেশ দেন।
ইউনাইটের গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক (বিঃ অনুঃ ও তদন্ত-১) মো. জাহাঙ্গীর আলম ২৮ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগ অনুসন্ধানের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রধান কার্যালয়, ঢাকার স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৪০৩.০১.০০৩.২৪.৬৫১৪ তারিখ: ২৮/০১/২০২৬ খ্রি.।
অভিযোগ অনুসন্ধানের অগ্রগতি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন হাসান রশিদ ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে জাল দলিলের মাধ্যমে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি দখলসহ অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থ পাচার এবং ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডকে অনিয়মের মাধ্যমে ক্যাপাসিটি রেটের পরিবর্তে আইপিপি রেটে গ্যাস সরবরাহ সংক্রান্ত বিভিন্ন সময়ে প্রাপ্ত ০৪ টি অভিযোগ একত্রে অনুসন্ধানাধীন আছে।
অভিযোগ অনুসন্ধানকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি., কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি., সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়, বাড্ডা, ঢাকা ও আয়কর অফিস হতে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র/তথ্যাদি সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র/তথ্যাদির আলোকে মঈন উদ্দিন হাসান রশিদসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে বেআইনিভাবে ক্যাপাসিটি রেটের পরিবর্তে অবৈধভাবে আইপিপি রেটের সুবিধা নিয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের জানুয়ারি/২০১৮ হতে মার্চ/২০২৫ পর্যন্ত গ্যাস বিল বাবদ ৪ শ’ ৮৬ কোটি ৪৩ লক্ষ ৮২ হাজার ৬১১.৭৫ টাকা এবং কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের অক্টোবর/২০১৮ হতে নভেম্বর/২০২৫ পর্যন্ত ৪ শ’ ৯৫ কোটি ২৩ লক্ষ ৯৭ হাজার ৪০৪ টাকাসহ মোট ৯ শ’ ৮১ কোটি ৬৭ লক্ষ ৮০ হাজার ১৫.৭৫ টাকা পরিশোধ না করে আত্মসাৎসহ অন্যান্য অভিযোগের Prima Facie (প্রাথমিক সত্যতা) পাওয়া গেছে।
এ মামলার অনুসন্ধান শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মামলা রুজুসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে মর্মে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এসএন/পিডিকে