ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ধুলজোড়া ব্রিজের কাছে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগনেতা মান্নান মাতুব্বর এবং পার্শ্ববর্তী সালথা উপজেলার খাড়দিয়া গ্রামের বিএনপিনেতা মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গত শনিবার (২৯ আগস্ট) মান্নান মাতুব্বরের লোকজন জিহাদ গ্রুপের সোলায়মান মাতুব্বর বাজারে আসলে তার ওপর হামলা চালায়।
হামলায় সোলায়মান গুরুতর আহত হলে মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এর কিছুক্ষণ পরই মান্নান মাতুব্বর ও তারা মিয়ার নেতৃত্বে মাসুদ রানা, মজনু মাতুব্বর, পান্নু মাতুব্বর, ফারুক মাতুব্বর, মারুফ মাতুব্বর ও ইয়াসিনসহ ১০-১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুশফিক বিল্লাহর ওপরও অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে রক্তাক্ত জখম করে। খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান পুলিশ নিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
পূর্বের এই ঘটনার জের ধরে রোববার সন্ধ্যায় ধুলজোড়া ব্রিজের কাছে আবারও সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হয়। বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা আহতদের মধ্যে পরমেশ্বরদী গ্রামের কবির মোল্যা, কামরুল মোল্যা ও লোকমান মোল্যার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইজাজ আহমেদ শাওন বলেন, সন্ধ্যার পর গুরুতর আহত অবস্থায় ৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং আশঙ্কাজনক ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।