জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অক্সিজেন স্বল্পতা ও চরম অবহেলার কারণে ছয় নবজাতক মারা যায়। এরপর স্বাস্থ্য অধিদফতর প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করে। এ ঘটনায় গঠিত সরকারের তদন্ত কমিটি হাসপাতালের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে। লাইসেন্স বাতিলের কারণে বন্ধ আছে হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা। তবে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নতুন করে পুনর্বিবেচনা করছে সরকার। আদ-দ্বীন হাসপাতালের পক্ষ থেকেও সিদ্ধান্তটি বিবেচনার জন্য সরকারের কোছে আপিল করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সরকার তাই সিদ্ধান্তের বিষয়ে নতুন করে ভাবছে। জানা গেছে, সরকার হাসপাতালটিকে ত্রুটি সংশোধনের জন্য কয়েকমাস সময় দিতে চায়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘বিবেচনা করার সুযোগ থাকলে মন্ত্রণালয় করতে পারে। তবে এই বিষয়ে কোনও হালনাগাদ তথ্য আমার কাছে নেই।’’
সূত্র জানায়, আদ-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তন করাকে সরকার ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে। হাসপাতালের ত্রুটি সংশোধনের প্রতিশ্রুতি পেলে তাদের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এছাড়া ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ পুরোপুরি পরিশোধ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে হয়তো ৩-৫ মাসের একটা টাইমফ্রেম দেওয়া হতে পারে।
ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই হাসপাতালটি নিয়ে আলোচনা- সমালোচনা চলছিল। অনেকেই হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে বন্ধ করার বিপক্ষে অবস্থান নেন। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও বারবার আদ-দ্বীন হাসপাতাল নিয়ে মন্তব্য করা হচ্ছিল। রবিবার (২৮ জুন) সংসদেও স্বাস্থ্য মন্ত্রী আদ-দ্বীন হাসপাতালের কার্যক্রম নিয়ে ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তিনি জানান, হাসপাতালটির লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্ত হাসপাতালটি বন্ধ করার জন্য নয়, বরং স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যদিও স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘অনেকেই বলেছেন, সেখানে ২০০-২৫০ টাকায় ডায়ালাইসিস হয়। সেটা সত্য। কিন্তু মাথাব্যথা হলে যেমন মাথা কেটে ফেলা যায় না, তেমনই যারা ভুল করেছেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। আমরা লাইসেন্স স্থগিত করেছি, হাসপাতাল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিইনি।’’
আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স) তারিকুল ইসলাম মুকুল জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য অধিদফতর ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যেসব ত্রুটির কথা বলা হয়েছিল, আমরা সেগুলো সংশোধন করে সচিব বরাবর আবেদন করেছি। আমরা এখন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
অন্যদিকে আদ-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল করায় বিপাকে পড়েছেন সেখানে অধ্যায়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীরা। হাসপাতাল বন্ধ থাকলেও কলেজ চালু আছে। তবে ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস ও ইন্টার্নশিপের জন্য শিক্ষার্থীরা পড়েছেন বড় সংকটে। বিশেষ করে ভারত ও মালদ্বীপের ২৯৫ জন শিক্ষার্থী নিজ দেশের মেডিক্যাল কাউন্সিলের নিয়ম নিয়ে শঙ্কিত।
ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী, ডিগ্রি সম্পন্ন করা ওই প্রতিষ্ঠানের হাসপাতালেই ইন্টার্নশিপ করতে হয়। শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা করছেন, এখন অন্য কোনও হাসপাতালে তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হলে তাদের পুরো শিক্ষাজীবন ও পেশাগত ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
এসএন/কে