পটুয়াখালীর বাউফলে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক জমি দখল করে ঘর নির্মাণ ও পুকুরের মাছ লুট করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ভরিপাশা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো সুষ্ঠু সমাধান পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভরিপাশা গ্রামে ১২ শতাংশ জমি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক আলী খান এবং মজিবর খানের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলছে। সম্প্রতি বিরোধীয় জমিতে মজিবর খান ও তার ভাইয়েরা ঘর তুলতে গেলে মোবারক খান বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
পরবর্তীতে গত ২২ জানুয়ারি মজিবর খানকে বিবাদী করে পটুয়াখালী সিভিল জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন মোবারক খান। আদালত বাদী পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে গত ২৪ মে বিরোধীয় জমিতে উভয় পক্ষকে স্থিতিবস্থা (স্ট্যাটাসকো) বজায় রাখার আদেশ দেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আদালতের আদেশের পরদিনই (২৫ মে) মজিবর খান ও তার ভাইয়েরা ওই জমিতে টিনশেড ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঘর তোলায় মোবারক খান ও তার ছেলে দেলোয়ার হোসেন বাধা দিতে গেলে মজিবর ও তার লোকজন তাদের মারধর করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে জানানো হলে বাউফল থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়।
এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মোবারক খানের ছেলে দেলোয়ার খান। তখন পুলিশ উভয় পক্ষের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে আদালতের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। তবে পুলিশ এবং আদালতের নির্দেশ অমান্য করে মজিবর খান ঘর নির্মাণ কাজ চালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মোবারক খান বলেন, তারা এইখানে কোনো জমি পাবে না। গায়ের জোরে আমাদের জমি দখল করতে চায়। তারা কোনো সালিশ-বিচার মানে না, এমনকি আদালতের আদেশও মানছে না। পুলিশকে জানানোর পরেও তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
তবে জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে মজিবর খান বলেন, ওই জমি আমি পাব। সেই জমিতেই আমি ঘর তুলছি। তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই মো. মেহেদী জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আদালতের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছি। এমনকি থানায় ডেকে উভয় পক্ষের মুচলেকায় স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। এরপরেও যদি কেউ আদালতের আদেশ অমান্য করে কাজ করে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।