ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবার তাদের মাটিতে টেস্ট জয়ের রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। দাপুটে ক্রিকেটে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এই জয়ের পর ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে দল। তবে এক ম্যাচ জিতেই আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চান না বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। দ্বিতীয় টেস্টের আগে দলকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, কামব্যাক করতে মরিয়া অস্ট্রেলিয়া আরও বেশি ভয়ংকর রূপ নিয়ে মাঠে ফিরবে।
প্রথম টেস্টে মাত্র সাড়ে তিন দিন ও ১১ সেশনে অসিদের হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সেই জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই আগামী শনিবার ম্যাকাইয়ে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ম্যাকাই টেস্টে জিতলে তো বটেই, এমনকি ড্র করতে পারলেও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার সিরিজ জয়ের অনন্য ইতিহাস গড়বে বাংলাদেশ।
পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ১৪০ বছরের টেস্ট ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গিয়ে সফরকারী কোনো দলের টেস্ট সিরিজ না হেরে দেশে ফেরার ঘটনা রয়েছে মাত্র ৬টি। যার মধ্যে আবার চারটিতেই বড় ভূমিকা রেখেছিল বৃষ্টি। এই ছোট্ট পরিসংখ্যানটিই প্রমাণ করে ঘরের মাঠে অসিরা কতটা শক্তিশালী। বিষয়টি ভালোভাবেই জানা রয়েছে কোচ সিমন্সের।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) অনুশীলনের ফাঁকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সিমন্স বলেন, ‘আমি দলকে একটা কথাই পরিষ্কার করে বলেছি—অস্ট্রেলিয়া আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে কামব্যাক করবে। তাই আমাদের হয় পারফরম্যান্সের এই ধারা ধরে রাখতে হবে, নতুবা নিজেদের খেলায় আরও একটু উন্নতি করতে হবে।’
অস্ট্রেলিয়ার কৌশল বদলে বাংলাদেশের ওপর চড়াও হবে জানিয়ে সিমন্স বলেন, ‘যদি সামান্য ১ শতাংশও উন্নতির সুযোগ থাকে, আমাদের সেটাই নিশ্চিত করতে হবে। কারণ আমরা খুব ভালো করেই জানি, তারা কৌশল পাল্টে আমাদের ওপর চড়াও হবে।’
ডারউইন টেস্টের আগে বাংলাদেশ দলের অবস্থা খুব একটা সুবিধার ছিল না। জিম্বাবুয়ে সফরে ব্যর্থতার পর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে সেই বিপর্যয়ের পরও দলের মধ্যে বিশ্বাসের কমতি ছিল না বলে জানালেন ক্যারিবীয় এই কোচ।
Advertisement
সিমন্স বলেন, ‘আমি ছেলেদের অনুশীলন দেখেছি। ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার পরও আমাদের কাজের গতি বা পরিশ্রমের মানসিকতা বিন্দু পরিমাণ বদলায়নি। সেটিই আমাকে সবচেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল। ছেলেরা ভালো কিছু করতে চায়, মাঠে প্রমাণ করতে চায়। তাই সাফল্য তো আসারই ছিল।’
ম্যাকাই টেস্টের আগে দলের আত্মবিশ্বাস এখন আকাশচুম্বী জানিয়ে সিমন্স আরও বলেন, ‘একটি টেস্ট জেতার পর স্বাভাবিকভাবেই দলের ভেতর আলাদা আত্মবিশ্বাস কাজ করে। আমরা দুর্দান্ত খেলে ম্যাচ জিতেছে, তাই সবাই চাঙ্গা আছে।’
এ সময় নিজের ক্যারিয়ারের সেরা অর্জনের কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশ কোচ জানান, ডারউইনের এই টেস্ট জয়টিই তার কোচিং ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সাফল্য। সিমন্স বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটি আমার কোচিং ক্যারিয়ারের সেরা টেস্ট জয়। সীমিত ওভারে হয়তো এর চেয়ে বড় বড় জয় আছে, কিন্তু টেস্ট হিসেবে এটিই সেরা।’