ঝালকাঠির নলছিটিতে প্যালেস্টাইন টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজে ধারের পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ার জেরে কলেজ অধ্যক্ষের ঘুষিতে ওই প্রতিষ্ঠানেরই কম্পিউটার অপারেটরের দুটি দাঁত ভেঙে পড়ে গেছে। উপজেলার কাঠিপাড়া এলাকায় অবস্থিত ওই কলেজে গতকাল সোমবার (১৮ মে) বেলা ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম হাফিজুর রহমান, তিনি ওই কলেজের অধ্যক্ষ। আর ভুক্তভোগী মো. ওয়াহিদুজ্জামান একই প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত।
ভুক্তভোগী ওয়াহিদুজ্জামান জানান, গত বছর কোরবানির ঈদের পর অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ধার নেন। দীর্ঘদিন ধরে সেই ধারের টাকা ফেরত না দিয়ে প্রায় ৬-৭ মাস ধরে ঘোরাতে থাকেন। একপর্যায়ে ক্রমাগত চাপের মুখে মাস তিনেক আগে অধ্যক্ষ তার পাওনা টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হন। তবে টাকা ধার নেওয়া এবং তা ফেরত দিতে ঘোরানোর বিষয়টি কলেজের অন্যান্য শিক্ষক ও স্টাফদের মধ্যে জানাজানি হয়ে যায়। এতে ওয়াহিদুজ্জামানের ওপর মনে মনে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হন অধ্যক্ষ।
এরই জেরে গতকাল সোমবার সকালে অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান ওয়াহিদুজ্জামানকে কলেজের অফিস কক্ষে ডেকে নেন এবং টাকা ধার নেওয়ার বিষয়টি কেনো অন্য সহকর্মীদের জানানো হলো- তা নিয়ে জেরা শুরু করেন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে অধ্যক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওয়াহিদুজ্জামানের মুখে এলোপাতাড়ি কয়েকটি ঘুষি মারেন। অধ্যক্ষের ভারী ঘুষির আঘাতে ওয়াহিদুজ্জামানের মুখের সামনের দুইটি দাঁত ভেঙে উপড়ে পড়ে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত জখম হন।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর মুখের ক্ষত গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন। আজ মঙ্গলবার সকালে তিনি চিকিৎসার জন্য বরিশালে রওনা হয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মো. হাফিজুর রহমান বলেন, কথা বলার সময় আমি কিছুটা উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলাম, যার ফলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে। এটা করা আমার ভুল হয়েছে। এই ঘটনার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আমাদের কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাহেব বসে বিষয়টি ফয়সালা করবেন বলে জানিয়েছেন।
নলছিটি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম বলেন, আমরা এ ঘটনায় এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।