৯ বছরের শিশুকে নদীতে ফেলে হত্যার অভিযোগে সৎবাবা কারাগারে

মাদ্রাসায় ভর্তি করানোর কথা বলে নয় বছরের শিশু মাসফিকা আক্তার তাসপিয়াকে সঙ্গে নিয়ে বের হয়েছিলেন সৎবাবা সাফিউল ইসলাম (৪০)। পারিবারিক বিরোধের জেরে তাকে নদীতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বুধবার দিনগত গভীর রাতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদী থেকে শিশু তাসপিয়ার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, মাদ্রাসায় ভর্তির কথা বলে রাতে নৌকায় করে করতোয়া নদীর মাঝখানে নিয়ে প্রথমে শিশুটিকে পানিতে ফেলে দেন সাফিউল ইসলাম। পরে মায়া হলে আবার পানি থেকে তুলে নেন। তবে তীরে ফিরে স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইলে ফোনে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ফের তাকে নদীতে ফেলে দেন।

পুলিশ জানায়, গত ১৪ আগস্ট তাসপিয়াকে মাদ্রাসায় ভর্তি করানোর কথা বলে বিন্যাগাড়ি রোডের জোবাইদা মহিলা মাদ্রাসায় রেখে আসেন সাফিউল। দুদিন পর, ১৬ আগস্ট বিকেলে ভর্তি-সংক্রান্ত ছবি তোলার কথা বলে তাকে সেখান থেকে নিয়ে যান তিনি। ওই দিন রাত ৯টা ১৬ মিনিটে তাসপিয়া নিজেই আগের মাদ্রাসায় ফোন করে জানায়, তাকে অন্য একটি মাদ্রাসায় রাখা হয়েছে। কিন্তু এরপর আর কোনো মাদ্রাসায় নেওয়া হয়নি শিশুটিকে। বরং সাফিউল তাকে নিয়ে একের পর এক স্থান পরিবর্তন করতে থাকেন।

পুলিশ আরও জানায়, তাসপিয়াকে রাণীগঞ্জ বাজার থেকে ভ্যানে করে কবিরপুর, এরপর গোবিন্দপুর হয়ে মুসিপাড়ার ঘাটে নিয়ে যান সাফিউল। পরে সেখান থেকে একটি নৌকায় ওঠেন তাসপিয়াকে নিয়ে। নৌকাটি করতোয়া নদীর মাঝামাঝি পৌঁছালে রাত ১২টা থেকে ১টার মধ্যে শিশুটিকে পানিতে ফেলে দেন সাফিউল। এরপর মায়া হলে পানি থেকে তুলে নেন এবং বুকে জড়িয়ে ধরেন। পরে নৌকা নিয়ে তীরে ফিরে আসেন। তীরে ফেরার পর মোবাইল ফোনে স্ত্রী লিজার সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি তাসপিয়াকে তীরের কাছেই নদীতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন।

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, শিশু তাসপিয়া হত্যার ঘটনায় তার সৎবাবা সাফিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় তাসপিয়ার আপন বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার করা সাফিউলকে বৃহস্পতিবার আদালতের পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *