ইতিহাসের দুয়ারে দাঁড়িয়ে সুযোগটা হাতছাড়া করেনি সুইজারল্যান্ড। ব্রিল এমবোলো ও ড্যান এনদোয়ের গোলে আলজেরিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ১৯৩৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচ জয়ের স্বাদ পেল তারা। ভ্যাঙ্কুভারে দাপুটে পারফরম্যান্সে আলজেরিয়াকে হারিয়ে ২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে সুইজারল্যান্ড।
আজ আলজেরিয়ার বিপক্ষে সহজেই জয় তুলে নেয় সুইসরা। এই জয়ের মাধ্যমে শুধু নকআউটে জায়গাই নিশ্চিত হয়নি, বিশ্বকাপের ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় যোগ করেছে দলটি!
বিশ্বকাপে টানা চতুর্থবারের মতো শেষ ষোলোতে উঠলেও নকআউট পর্বে জয় পেতে সুইজারল্যান্ডকে অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ ৮৮ বছর। ১৯৩৮ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেল তারা। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম টানা তিনটি ম্যাচ জয়ের কীর্তিও গড়েছে সুইসরা।
পুরো ম্যাচে রক্ষণভাগে ছিল সুইজারল্যান্ডের দুর্দান্ত আধিপত্য। গ্রুপ পর্বে দারুণ ফুটবল খেলে নকআউটে ওঠা আলজেরিয়া সুইসদের অভিজ্ঞ ও সংগঠিত ডিফেন্স ভাঙতে পারেনি। অন্যদিকে সুযোগ কাজে লাগিয়ে এমবোলো ও এনদোয়ের দুটি গোলে স্বস্তির জয় নিশ্চিত করে সুইজারল্যান্ড।
এই জয়ে আলজেরিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলেও সুইজারল্যান্ডের সামনে খুলে গেছে আরও বড় স্বপ্ন দেখার সুযোগ। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ভ্যাঙ্কুভারের একই মাঠে কলম্বিয়া ও ঘানার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে সুইসরা।
প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় সুইজারল্যান্ড। ১০ মিনিটে জোহান মানজাম্বির দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টার পর ব্রিল এম্বোলোর গোলে এগিয়ে যায় সুইসরা। মাঝমাঠ থেকে বল টেনে এনে কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে এম্বোলোর সামনে নিখুঁত পাস বাড়িয়ে দেন মানজাম্বি, আর সহজ ফিনিশে দলকে লিড এনে দেন এম্বোলো। বিরতির পর মাঠে ফিরেই ব্যবধান বাড়াতে সময় লাগে মাত্র ৪৮ সেকেন্ড। আলজেরিয়ার রক্ষণ বল সরাতে ব্যর্থ হলে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক শটে গোল করেন ড্যান এনদোয়ে।
এরপরও আরও গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল সুইজারল্যান্ড। ৮১ মিনিটে ফাঁকা জাল পেয়েও রেইডার গোড়ালির শটে বল গোলরক্ষকের হাতে পাঠান। তবে তাতে জয়ের ব্যবধানই শুধু কম থাকে, ফল বদলায়নি।
এই জয়ে ১৯৩৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় তুলে ৮৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাল সুইজারল্যান্ড। সেবার জার্মানিকে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছিল তারা। সেই আসরেই সর্বশেষ কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল সুইসরা। যেখানে যদিও তারা হেরে যায় হাঙ্গেরির কাছে!
এসএন/পিডিকে