জীবনকে এখন আর নির্দিষ্ট কোনো ছকে বেঁধে রাখতে চান না আরিফিন শুভ। কাজের প্রয়োজনে কখনো দেশে, কখনো দেশের বাইরে—জীবনের স্রোত যেদিকে নিয়ে যাচ্ছে, সেদিকেই এগিয়ে চলেছেন তিনি। তবে এই পথচলার মধ্যেই সম্পর্ক ও বিয়ে নিয়ে নিজের ভাবনায় পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা।
বর্তমানে নিজেকে ‘হ্যাপিলি সিঙ্গেল’ বলছেন শুভ। তবে একা থাকার মধ্যেই যে জীবনের পূর্ণতা নেই, সেটি এখন উপলব্ধি করছেন তিনি। তাঁর কথায়, মানুষ সম্ভবত একা থাকার জন্য তৈরি হয়নি।
গত কোরবানির ঈদে মুক্তি পায় শুভ অভিনীত সিনেমা ‘মালিক’। মুক্তির পরপরই আবার দেশের বাইরে চলে যান তিনি। এর আগে দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থেকে কাজ করেছেন সনি লিভ অরিজিনাল সিরিজ ‘জ্যাজ সিটি’তে। সিরিজটিতে তাঁর অভিনয় দর্শক-সমালোচকের প্রশংসা পেয়েছে।
শুভর ব্যক্তিজীবনে বিয়ে নিয়ে কৌতূহল অবশ্য নতুন নয়। কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ লিখে পোস্ট দেওয়ার পর অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, হয়তো জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন তিনি। পরে জানা যায়, সেটি বাস্তব জীবনের কোনো ঘোষণা নয়, বরং চরকি অরিজিনাল সিনেমা ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এর প্রচারণার অংশ।
তবে বাস্তব জীবনে আবার সম্পর্কে জড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে এবার খোলামেলাই কথা বলেছেন শুভ। তাঁর ভাষায়, ‘জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে—এগুলো নাকি ওপরওয়ালা থেকে নির্ধারিত হয়। যেহেতু আমি এখন “হ্যাপিলি সিঙ্গেল”, তবে আমার উপলব্ধি হয়েছে, মানুষ বোধ হয় একা বাঁচার জন্য তৈরি হয়নি। মানুষ একা বাঁচতে পারে না।’
এই উপলব্ধির পেছনে রয়েছে তাঁর জীবনের নানা অভিজ্ঞতা। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মাকে হারানোর পর নিজেকে অনেকটাই গুটিয়ে নিয়েছিলেন অভিনেতা। ব্যক্তিজীবনের আরও কিছু ঘটনা তাঁকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সেই অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে সম্পর্ক ও জীবনকে নতুনভাবে দেখছেন তিনি।
শুভ বলেন, ‘আমার মা চলে যাওয়ার পর এবং আরও বিভিন্ন ঘটনা ঘটার পর আমি নিজেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিলাম। কিন্তু আস্তে আস্তে অনুধাবন করছি, মানুষ একা বাঁচার জন্য জীবন ধারণ করে না। সেটা শুধু বৈবাহিক সম্পর্কই হতে হবে, তা নয়। তবে যদি বিশেষভাবে বিয়ের কথা বলতে চাই, সে ক্ষেত্রে বলতে পারি, অবশ্যই সম্পর্ক বা বিয়ে আমার জীবনে আবার আসতে পারে। সেটা ওপরওয়ালা জানেন। যখন হবে, তখন হবে।’
অর্থাৎ বিয়ের সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না শুভ। কিন্তু কবে, কীভাবে বা কার সঙ্গে—সেসব নিয়ে এখনই কোনো পরিকল্পনা নেই তাঁর। দেশের বাইরে থাকার বিষয়টিও কি ভবিষ্যতের কোনো নতুন অধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত? এমন প্রশ্নের উত্তরেও সরাসরি কিছু বলেননি তিনি। বরং রহস্য রেখেই তাঁর মন্তব্য, ‘আকাশে চাঁদ উঠলে সবাই দেখতে পাবেন।’
শুধু সম্পর্ক নয়, জীবন নিয়েও শুভর দৃষ্টিভঙ্গিতে এসেছে পরিবর্তন। একটা সময় ভবিষ্যৎ নিয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করতেন তিনি। কোন পথে এগোবেন, কীভাবে এগোবেন—সবকিছুই ছিল অনেকটা হিসাব করে। এখন সেই পরিকল্পনার জায়গায় এসেছে জীবনকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দেওয়ার মানসিকতা।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একটা সময় খুব পরিকল্পনা করে জীবনকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ছিল। সেটাকে ভুল বলব না। জীবনের একেক সময়ে একেক উপলব্ধি থাকে। তবে এই মুহূর্তে সে অর্থে কোনো পরিকল্পনা বা কৌশল নেই যে এভাবেই যাব বা এভাবেই করব।’
জীবনের স্রোতের সঙ্গে চলার এই দর্শনই এখন তাঁর কাছে বেশি স্বস্তির। শুভর ভাষায়, ‘জীবনের গতি বা স্রোত যেভাবে যেদিকে নিয়ে যাবে, সেটাকে মেনে নিয়ে বাঁচার, জীবনকে উপলব্ধি ও উপভোগ করার প্রয়াস থাকবে। জীবনের স্রোতের সঙ্গে ভেসে থাকাটাই বোধ হয় শান্তিপূর্ণ জীবন। আমি চেষ্টা করছি জীবনের স্রোতকে বোঝার এবং সে অনুযায়ী জীবনকে এগিয়ে নেওয়ার।’
তাহলে কি সেই স্রোত তাঁকে আবার বিয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে? উত্তরটি অবশ্য এখনই প্রকাশ করতে চান না শুভ। তবে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ সিনেমার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সুখী দাম্পত্যের ধারণা নিয়েও নিজের ভাবনা জানিয়েছেন তিনি।
শুভর মতে, বিয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুন্দর ছবি প্রকাশ করা কিংবা বাইরে থেকে সুখী দেখালেই একটি সম্পর্ক ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ হয়ে যায় না। এর পেছনে থাকে অনেক ছোট ছোট বিষয়—পারস্পরিক বোঝাপড়া, দেওয়া-নেওয়া ও সমঝোতা। এসব বিষয়ই ধীরে ধীরে একটি দাম্পত্যকে স্থিতিশীল করে।
তাঁর ভাষায়, ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ শুধু একটি অবস্থার নাম নয়; বরং বিয়ের পর কীভাবে সম্পর্ক এগিয়ে যায়, সেটিই আসল গল্প।
বাস্তব জীবনে সেই গল্পে আরিফিন শুভ কবে নতুন অধ্যায় শুরু করবেন, তা এখনো অজানা। তবে ‘হ্যাপিলি সিঙ্গেল’ শুভর কথায় অন্তত এটুকু স্পষ্ট—বিয়ে নিয়ে তাঁর ভাবনাটা এখন আগের মতো নেই। বাকিটা, তাঁর ভাষায়, ‘আকাশে চাঁদ উঠলে’ই জানা যাবে।