হরমুজে জাহাজ জব্দের দাবি ইরানের, তেলের দামে লাফ

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় দুটি জাহাজকে থামিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে ইরান। সেই সঙ্গে বিশ্বখ্যাত তেল পরিবহণ রুটে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। খবর রয়টার্সের। 

স্থানীয় শুক্রবার (৩১ জুলাই) ইরানের সামরিক বাহিনীর বরাতে এই তথ্য জানা যায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাধা পেয়ে আরও চারটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার পথ পরিবর্তন করে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। তবে তেহরানের এই দাবির সত্যতা স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জাহাজ চলাচলের উপাত্ত বিশ্লেষণকারী সংস্থা ‘কেপলারের’ তথ্য অনুযায়ী, উত্তেজনা সত্ত্বেও এখনও বেশ কিছু বড় তেলবাহী ট্যাঙ্কার প্রণালি অতিক্রম করছে।

বিশ্বের মোট ব্যবহৃত জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে। মধ্যপ্রাচ্যে চলতি যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গত পাঁচ মাস ধরে প্রণালিটিতে অধিকাংশ জাহাজ চলাচল বন্ধ বা সীমিত করে রেখেছে ইরান। এর ওপর লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মানদেব প্রণালিতেও ইরানের মিত্র ইয়েমেনি গোষ্ঠীগুলোর হুমকি অব্যাহত থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজ ও ক্যাম্প ডেভিডে কেবিনেট বৈঠকে মন্তব্য করে জানান, ইরানের সঙ্গে এখনও চুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন তিনি। তবে ইরানের প্রতিশ্রুতি রক্ষার বিষয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করে প্রয়োজনে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ বা বিমান হামলার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, জুলাই মাসেই বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *