হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের গাড়িবহড়ে হামলার ঘটনায় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করে বাহুবলের কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে এনসিপি।
আজ বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল ৪টায় মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। কিন্তু শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় পুলিশ প্রথম দফায় তাদের গাড়িবহর আটকে দেয়। প্রায় আধা ঘণ্টা অপেক্ষার পর বিকেল ৫টা ৫ মিনিটের দিকে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে নেতারা পুনরায় হবিগঞ্জের দিকে যাত্রা করেন।
পরবর্তীতে মুছাই এলাকায় দ্বিতীয় দফায় পুলিশের জোরদার বাধার মুখে পড়েন এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং সংসদ সদস্য মাহমুদা আক্তার মিতু। থমথমে পরিস্থিতির পর রাত ৮টার দিকে কামাইছড়া ফাঁড়িতে অবস্থান নিয়ে এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এতে এনসিপির পক্ষে বাদী হয়েছেন হবিগঞ্জ জেলা যুব শক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তানভীর রুয়েল।
অভিযোগ দায়েরের সময় কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা পাল্টা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। একই সঙ্গে বিকেলে হবিগঞ্জ শহরের জেলা বিএনপি কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভা আয়োজন করে জেলা যুবদল।
গত মঙ্গলবার কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে হবিগঞ্জ শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় বলে দাবি এনসিপি নেতাদের। ওই হামলায় এনসিপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় বিজিবি সদস্যদের।