হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া আরও কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে : বিমানমন্ত্রী

আগামী হজ মৌসুমে হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া আরও কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেছেন, অতীতে হজের বিমান ভাড়া নিয়ে একটি সিন্ডিকেট কাজ করলেও বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী সেই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে। ফলে ইতোমধ্যে ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে, ভবিষ্যতে তা আরও কমানোর চেষ্টা চলছে।

গতকাল শনিবার (১ আগস্ট) রাতে রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী হজ ও ওমরাহ মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিমানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বেসরকারি হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)।

বিমানমন্ত্রী বলেন, হজ ও ওমরাহ কেবল একটি ভ্রমণ নয়, বরং মুসলমানদের জন্য ঈমান, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক মহিমান্বিত ইবাদত। তাই হজযাত্রাকে আরও সহজ, নিরাপদ এবং সেবানির্ভর করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

আফরোজা খানম বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরকারের সংশ্লিষ্টদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন-কোনো হজযাত্রী যেন হয়রানির শিকার না হন এবং তারা যেন সাশ্রয়ী খরচে নিরাপদ ও মানসম্মত সেবা পান। সেই নির্দেশনা অনুসারেই বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিমানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালে হজের বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা। ২০২৬ সালে তা ১২ হাজার টাকা কমানো হয়। পরে ২০২৭ সালের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আরও ২৪ হাজার ৮০০ টাকা কমিয়ে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। অর্থাৎ মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে মোট ৩৬ হাজার ৮৩০ টাকা বিমান ভাড়া কমানো সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন চার্জ ও ট্যাক্স কমানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। সেই প্রচেষ্টা সফল হলে ভবিষ্যতে হজের বিমান ভাড়া আরও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে সরকার আশাবাদী।

হজযাত্রীদের খাবারের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন পর্যটনমন্ত্রী। তিনি বলেন, সৌদি সরকার খাবারের দায়িত্ব নেওয়ায় একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তবে বাংলাদেশি হাজিদের খাদ্যাভ্যাস বিবেচনায় বিষয়টি আরও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থানের সময় অধিকাংশ বাংলাদেশি ভাত ও দেশীয় খাবারই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার। সঞ্চালনা করেন হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ, যুগ্ম সচিব ড. মঞ্জুরুল হক, বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কায়জার সোহেল আহমেদ, হাবের সাবেক সভাপতি ইবরাহিম বাহার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা ইয়াকুব শরাফতি, বায়রার সাবেক সভাপতি কাজী মফিজুর রহমান এবং টোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ হানিফসহ সংশ্লিষ্ট খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং হজযাত্রীদের নিরাপদ সফর কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *