স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে আনসার ও রোগীর স্বজনদের মারামারি

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক শিশুর চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত আনসার সদস্যের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে জরুরি বিভাগের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাজাপুরের বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম শামীম তার এক বছর বয়সী সন্তান তাসবিহকে চিকিৎসার জন্য রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশা ইসলাম মীম শিশুটিকে দেখার সময় স্বজনদের বাইরে যেতে বলেন। এ সময় শিশুর মামা রাহাত চিকিৎসার বিষয়ে কথা বলতে গেলে সেখানে থাকা আনসার সদস্য মো. সুমন তাকে সরে যেতে বলেন। এ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে দুজন মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে শিশুটির বাবাও এতে যুক্ত হন।

স্বজনদের পক্ষে রাহাত হোসেন অভিযোগ করে বলেন, শিশুর নাক দিয়ে রক্ত পড়ায় চিকিৎসা পেতে দেরি দেখে তিনি চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আনসার সদস্য তাকে ধাক্কা দিলে তিনি পাল্টা ধাক্কা দেন। পরবর্তীতে অন্যত্র চিকিৎসার জন্য যেতে চাইলে তাদের আটকে রাখা হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আনসার সদস্য মো. সুমন বলেন, রোগীর চিকিৎসায় যেন বিঘ্ন না ঘটে সে জন্য স্বজনদের সরে যেতে বললে রাহাত তাকে সরাসরি কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন।

ঘটনার বিষয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশা ইসলাম মীম বলেন, জরুরি বিভাগে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ায় চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছিল, তবে কাউকে আটকে রাখার নির্দেশ তিনি দেননি। আনসার সদস্যদের ওপর হামলার কারণে আনসার বাহিনীর সদস্যরাই রোগীর স্বজনদের কিছু সময়ের জন্য আটকে রেখেছিলেন।

রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মেহেজাবীন ফারহানা নিসা বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটার পর মানবিক দৃষ্টিকোণ বিবেচনা করে মুচলেকা নিয়ে আটকদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *