স্কুলে ঢুকে ৩০ সেকেন্ডে ৩৪ বার ছুরিকাঘাত, শিক্ষিকা খুন

শিক্ষিকাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে সাড়া না পাওয়ায় স্কুলে ঢুকে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে অভিযুক্ত ঘাতক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ।

গত বুধবার (২৯ জুলাই) ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের ফরিদাবাদের শিকোনা গ্রামের একটি বেসরকারি স্কুলে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। নিহত শিক্ষিকার নাম সন্ধ্যা (২৯)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফরিদাবাদের শিকোনা গ্রামের ওই বেসরকারি স্কুলটি পুলিশ আউটপোস্টের খুব কাছেই অবস্থিত। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মুখ ঢাকা এক তরুণ স্কুলে প্রবেশ করে সন্ধ্যা নামের ওই শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বলতে চায়। শিক্ষিকা গেটের সামনে আসা মাত্রই আততায়ী তার ওপর হামলা চালায়। 

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আততায়ী যুবকটি লবিতে অপেক্ষা করছিল। শিক্ষিকা সামনে আসা মাত্রই তাকে বাইরে আসার সংকেত দেয়। মুহূর্তের মধ্যে তার গলা চেপে ধরে টানতে টানতে বাইরে নিয়ে যায়। এরপর মাত্র ৩০ সেকেন্ডে মুখ, ঘাড় ও বুকে অন্তত ৩৪ বার ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে।

স্কুলের ভেতরে চিৎকার শুনে অফিস কক্ষ থেকে দৌড়ে আসেন স্কুল প্রশাসক। তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ঘাতক তার দিকেও ছুরি নিয়ে তেড়ে যায়। এরপর মাটিতে লুটিয়ে পড়া ওই শিক্ষিকার পেটে ও মুখে আরও প্রায় ২০ বার আঘাত করে নম্বর প্লেটহীন একটি মোটরসাইকেলে চেপে দ্রুত পালিয়ে যায় আততায়ী।

শিক্ষিকাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত আল ফালাহ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

ঘটনার দুই ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ ঘাতক তরুণকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। ২১ বছর বয়সী ওই অভিযুক্তের নাম অমিত, সে পার্শ্ববর্তী কোট গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে। 

পুলিশের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা জানান, প্রায় দুই বছর আগে অমিতের সঙ্গে সন্ধ্যার পরিচয় হয়। সন্ধ্যা তার সঙ্গে কথা বলতে অনিচ্ছুক থাকা সত্ত্বেও অমিত তাকে অনবরত পিছু ধাওয়া (স্টকিং) ও উত্ত্যক্ত করত। ক্রমাগত হয়রানিতে অতিষ্ঠ হয়ে সন্ধ্যা কয়েকদিন আগে অমিতের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির (মলেস্টেশন) অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সে সময় অমিত প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে পার পায়। 

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, সেই পুরোনো অভিযোগ ও প্রতিশোধের বশবর্তী হয়েই অমিত সুপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *