গাজীপুরের শ্রীপুরে সজীব মিয়া (৩০) নামে এক যুবককে বাজার থেকে তুলে নিয়ে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মো. শরিফ সরকার (৪৩) নামে এক শ্রমিকদল নেতার বিরুদ্ধে। গতকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে ভুক্তভোগি সাজিবের মা খালেদা আক্তার শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী যুবক সজীব মিয়া উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি দেওচালা গ্রামের মো. কফিল উদ্দিনের ছেলে।
অভিযুক্ত মো. শরিফ সরকার উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের মাওনা গ্রামের প্রয়াত আবুল হোসেন সরকারের ছেলে। তিনি জেলা শ্রমিকদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় শিল্প শ্রমিক দলের সহদপ্তর সম্পাদক।
নির্যাতনের শিকার সজীব মিয়ার বাবা কফিল উদ্দিন বলেন, ২১ জুলাই রাত আনুমানিক সাড়ে ১০ টার দিকে অভিযুক্ত শ্রমিকদল নেতাসহ তার লোকজন এমসি বাজারের ছেলের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ছেলে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে লোহার রড লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে শ্রমিকদল নেতার প্রাইভেটকারে তুলে নিয়ে যায় স্বপ্নপুরী হোটেল সংলগ্ন শ্রমিকদল নেতার বাড়ির নিচে টর্চার সেলে। সেখানে নিয়ে চলে পাষবিক নির্যাতন। রাত ১২ টার দিকে খবর পেয়ে ছেলেকে খুঁজতে বের হই। শ্রমিকদল নেতার অফিসসহ কয়েকটি স্থানে খুঁজে সর্বশেষ স্বপ্নপুরী হোটেলের পিছনে ছেলেকে দেখতে পাই। তাকে রক্ষা করতে আমার ভাইয়ের ছেলে আনিছ এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করে আহত করা হয়। ভোররাতে পুলিশকে খবর দিয়ে আওয়ামী লীগনেতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলার আসামি পরিচয় দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। কিন্তু আমার ছেলে কোনো রাজনীতি করে না। সে এক আওয়ামী লীগ নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেখবাল করে। পুলিশ পাহারায় ছেলেকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশংকাজনক দেখে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
ভুক্তভোগী যুবকের মা খালেদা আক্তার বলেন, এমন নিষ্ঠুর ভাবে কেউ কাউকে মারে? আমার ছেলের শরীরের এক ইঞ্চি জায়গা নেই যেখানে আঘাত করেনি। শরীরের বিভিন্ন স্থানে লোহার রড গরম করে ছ্যাকা দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। হাত-পা কোমড় ভেঙে দিয়েছে। ওদের ভয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ পর্যন্ত দিতে পারিনি কয়েকদিন।
অভিযুক্ত শ্রমিকদল নেতা শরীফ সরকারের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অরুপ কুমার বলেন, ওই দিন রাতে থানা থেকে খবর পেয়ে এমসি বাজার এলাকা থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় সজীব মিয়াকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরবর্তী কার্যক্রমের বিষয়ে থানার উপপরিদর্শক এসআই মাজহারুল ইসলাম ভালো বলতে পারবেন।
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক এসআই মাজহারুল ইসলাম বলেন, আটক করা সজিবকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে নেওয়া হলে বিচারক অসুস্থতার কারণে গ্রহণ না করে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, সজীবকে সেখানে মারধর করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসা চলমান। গুরুতর অসুস্থতার কারণে আদালতে পাঠানো হয়নি। সজীব বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলার আসামি এটা ঠিক। কিন্তু মারধর করা ঠিক হয়নি। তিনি আরও জানান, মারধরের ঘটনায় আহত সাজিবের মা বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।