শেখ হাসিনা লাইভে আসার পর কমে যায় ৪৪ হাজার দর্শক

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে গতকাল বুধবার (৫ আগস্ট) নয়া দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। তাকে সরাসরি দেখা যাবে—এমন জল্পনা-কল্পনা ও সংবাদমাধ্যমের প্রচারের কারণে জনমনে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত লাইভ ভিডিওতে আসেননি তিনি। ভিডিও কনফারেন্সের পরিবর্তে তিনি অডিও সংযোগে বক্তব্য পেশ করায় অনেক দর্শক হতাশ হন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম কলকাতা’র বিশেষ বিশ্লেষণভিত্তিক অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুব্রত আচার্য বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

দীর্ঘ দুই বছর পর শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে পর্দায় দেখা যাবে—এমন প্রত্যাশা নিয়ে বিপুলসংখ্যক দর্শক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভটিতে যুক্ত হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগপন্থী প্রচারমাধ্যমগুলোও দাবি করেছিল যে তিনি সরাসরি ভিডিওতে হাজির হয়ে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেবেন। কিন্তু বক্তব্য শুরুর আগেই ফেসবুক লাইভে যখন প্রায় দুই লাখ ছয় হাজার সমসাময়িক দর্শক উপস্থিত হন, ঠিক তখনই স্পষ্ট হয় যে ভিডিও নয়, এটি অডিও নির্ভর সম্প্রচার। ফলশ্রুতিতে অডিওতে কথা বলা শুরুর মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় ভিউয়ার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে এক লাখ ৬২ হাজারে নেমে আসে, অর্থাৎ মুহূর্তের মধ্যেই প্রায় ৪৪ হাজার দর্শক লাইভ ছেড়ে বেরিয়ে যান।

এই নাটকীয় দর্শক পতনের পেছনে অডিও-ভিডিও দ্বন্দ্ব নাকি তার রাজনৈতিক বক্তব্যের অসারতা দায়ী—তা নিয়ে আলোচনা জমে উঠেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর দু’বছর ধরে দিল্লিতে তিনি কেমন আছেন বা তার চেহারা কেমন হয়েছে—তা দেখার এক প্রবল সামাজিক ও রাজনৈতিক কৌতূহল মানুষের মাঝে ছিল। কিন্তু ভিডিওতে না এসে কেবল অডিওতে থাকার পেছনে নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা, ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞা নাকি অন্য কোনো রাজনৈতিক কৌশল ছিল, তা শেখ হাসিনা বা আয়োজকদের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করা হয়নি। ফলে ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার যে ঘোষণা তিনি দিয়েছেন, তা বাস্তবে কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনা নাকি কেবলই ফাঁপা বার্তা—তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন চিহ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

বাস্তবিক প্রেক্ষাপটে, দিল্লির ‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া’ আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং কয়েকজন দলীয় নেতা উপস্থিত থাকলেও শেখ হাসিনার সরাসরি আত্মপ্রকাশ না ঘটা তার ভক্ত ও রাজনৈতিক সমালোচক উভয় পক্ষকেই চরমভাবে হতাশ করেছে। দর্শক সংখ্যার এই দ্রুত পতন স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে কেবল অডিওতে তার কণ্ঠ শুনে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি সাধারণ মানুষের। ভিডিওর অনুপস্থিতি এবং ডিসেম্বরে ফেরার ঘোষণার পেছনের বাস্তব পদক্ষেপের ফারাকই এখন দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *