শীত আসার আগেই ‘টিকে থাকার’ সংগ্রামে কিয়েভের বাসিন্দারা

রুশ বাহিনীর সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের বিভিন্ন সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে শীত আসার আগেই শহরটিকে ‘টিকে থাকার’ মতো পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার এএফপিকে জানিয়েছেন কিয়েভের মেয়র।

যুদ্ধের কৌশল হিসেবে রাশিয়া কিয়েভে হামলার ধরনেও পরিবর্তন এনেছে। দিনের বেলায় ড্রোন হামলা চালিয়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ সেতু এবং শহরের কেন্দ্রস্থলকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

এর পাশাপাশি রাশিয়া আবারও কিয়েভের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা শুরু করেছে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গত শীতেও একই ধরনের হামলার কারণে কয়েক দিন ধরে কিয়েভের বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ ছিল। সে সময় তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো এএফপিকে বলেন, ‘প্রতিদিনই ধ্বংস হওয়া ভবন, আহত মানুষ এবং দুঃখজনকভাবে নিহত মানুষের নতুন নতুন খবর আসছে। আমাদের শহরে গোলাবর্ষণের তীব্রতা বাড়ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো টিকে থাকা।’

সাক্ষাৎকারের কয়েক ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নের কারণে কিয়েভের মেট্রো চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে রুশ হামলায় শহরের বিদ্যুৎ গ্রিড ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের প্রথম কয়েক সপ্তাহে রুশ সেনারা কিয়েভের দিকে অগ্রসর হয়েছিল। তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইউক্রেনীয় বাহিনী তাদের পিছু হটতে বাধ্য করে।

এরপর থেকে সম্মুখসারির এলাকাগুলোর তুলনায় কিয়েভ বেশিরভাগ সময় বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রক্ষা পেয়েছে। তবে আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত ছিল এবং এসব হামলায় শত শত মানুষ নিহত হয়েছে।

বর্তমানে যুদ্ধের সম্মুখসারিতে বড় ধরনের পরিবর্তন না থাকায় মস্কো কিয়েভে দূরপাল্লার হামলার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। রাশিয়া এমন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও জেটচালিত ড্রোন ব্যবহার করছে, যেগুলো প্রতিহত করা তুলনামূলকভাবে কঠিন। আজ বৃহস্পতিবারের (৮ অক্টোবর) হামলাতেও কিয়েভে তিনজন নিহত হয়।

রাশিয়া বারবার কিয়েভের প্রধান সেতুগুলোতে হামলা চালিয়েছে। এসব সেতু দনিপ্রো নদীর দুই তীরকে সংযুক্ত করেছে। হামলার কারণে শহরজুড়ে যান চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে।

মেয়র ক্লিৎসকো বলেন, ‘শহরের বাম ও ডান তীরের মধ্যে যোগাযোগ সচল রাখা শহরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার অন্যতম প্রধান বিষয়।’ যানজট কমাতে শহর কর্তৃপক্ষ বিকল্প হিসেবে অস্থায়ী পন্টুন সেতু তৈরির কাজ করছে বলেও জানান মেয়র।

সাম্প্রতিক হামলার কারণে কিয়েভে ইতোমধ্যে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার শহরের কিছু এলাকায় কয়েক ঘণ্টা ধরে পানি সরবরাহও বন্ধ ছিল।

কিয়েভের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে ‘বেশ বড় আকারের’ সংকট তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন ক্লিৎসকো। শীতকাল এবং সম্ভাব্য বিদ্যুৎ-পানি সরবরাহে বিঘ্ন মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে শহর কর্তৃপক্ষ বিকল্প তাপ সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি করছে। পাশাপাশি জ্বালানি, খাদ্য ও পানীয় জল মজুত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ক্লিৎসকো বলেন, ‘আমরা যত ভালোভাবেই প্রস্তুতি নিই না কেন, যদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর না থাকে, তাহলে আমরা আরও খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *